১৪ মার্চ ২০২৬

মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবি রিফাতের বাবার

বাংলাধারা ডেস্ক »

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত সন্দেহে পুত্রবধূ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন রিফাতের বাবা ও মামলার বাদী আবদুল হালিম দুলাল শরীফ। শনিবার রাত ৮টার দিকে বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নিহত রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ এ দাবি করেন।

এ সময় মিন্নির বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগ তুলে ধরে দুলাল শরীফ বলেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য পরিষ্কার হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘রিফাতের সাথে বিয়ে হওয়ার পরেও প্রতিনিয়ত নয়ন বন্ডের সাথে মিন্নির যোগাযোগ ছিল। প্রায় প্রতিদিন নয়ন বন্ডের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতো মিন্নি। রিফাতকে হত্যার সময় সিসি টিভির ফুটেজে দেখা গেছে সরকারি কলেজের সামনের গেটে মিন্নিকে রিফাত তার মোটরসাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তখন মিন্নি সময় ক্ষেপণ করে।

এর মধ্যেই বন্ড গ্রুপ রিফাতকে মারধর করতে করতে কলেজের পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। সে সময়ে মিন্নি স্বাভাবিকভাবেই সেই সব দৃশ্য দেখতে থাকে এবং তাদের পেছনে হাঁটতে থাকে। পরে যখন রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী দা নিয়ে এসে নয়নের হাতে দিয়ে কোপাতে শুরু করে, তখন মিন্নি বাধা দিলেও তাকে কেউ আঘাত করেনি।’ এসব কারণে মিন্নিকেই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা বলে দায়ী করে তাকে গ্রেফতারের দাবি জানান দুলাল শরীফ।

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টায় বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে আহত করা হয় রিফাতকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। কোপানোর ভিডিও ওই দিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে তোলপাড় হয়। ভিডিও ফুটেজে মিন্নিকে হত্যাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তবে পরে আরেকটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিন্নিকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। ফুটেজে রিফাতকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় মিন্নিকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর নয়ন বন্ডরা যখন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যাচ্ছিল তখন একজন মিন্নিকে তার পড়ে যাওয়া পার্সটি মাটি থেকে তুলে দেয়। দাঁড়িয়ে হত্যাকারীদের চলে যাওয়া দেখেন মিন্নি। এসব কারণে হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন ওঠে। পরে গণমাধ্যমের কাছে এ অস্বাভাবিকতার কারণ বর্ণনা করে মিন্নি দাবি করেছিলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং রিফাতকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি/আর

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ