বাংলাধারা ডেস্ক »
রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার তার স্ত্রী ও মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার এবং তার চিকিৎসার আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২২ জুলাই) মিন্নির আইনজীবী বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারক হাকিম আদালতের এ দুটি আবেদন করেন।
তবে শুনানি নিয়ে আদালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী আবেদন দুটি খারিজ করে দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, আদালতে মিন্নির দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি প্রত্যাখ্যানের জন্য আবেদনে তার স্বাক্ষর প্রয়োজন। এ জন্য মিন্নিকে আদালতে হাজির করার বিষয়ে একটি আবেদন করা হয়েছিল।
এছাড়া মিন্নিকে চিকিৎসা দিতে আরেকটি আবেদন করা হয়েছিল। তবে দুটি আবেদনই আদালত খারিজ করে দিয়েছেন।
এর আগে রোববার মিন্নির করা জামিন আবেদন নাকচ করে দেন একই আদালত।
প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে।
এ ঘটনায় পরের দিন ২৭ জুলাই ১২ জনের নাম উল্লেখ করে নিহত রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। রিফাত হত্যা মামলায় নাটকীয়ভাবে মিন্নিকে ১৬ জুলাই গ্রেফতার দেখানো হয়। ১৭ জুলাই বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই ১৯ জুলাই মিন্নি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা জেলগেটে দেখা করতে গেলে মিন্নি তাদের বলেন, আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে পুলিশ তাকে যা বলতে বলেছে তিনি তাই বলেছেন। না বললে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল মিন্নিকে। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে এবং মামলার এক নম্বর আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। গ্রেফতারদের মধ্যে মিন্নিসহ ১৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং মামলার তিন নম্বর আসামি রিশান ফরাজীকে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি/আরইউ












