৩০ মার্চ ২০২৬

করোনারোধে ভূমিকা রাখতে পারে ‘মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’

শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত, মিরসরাই »

দিন যতই গড়াচ্ছে মাসগুলো ততই বছরের শেষ প্রান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর মাঝে করোনা তার আক্রমণও চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে। উদ্ধিগ্ন বিশ্ব, সেই সাথে পুরো বাংলাদেশ। মিরসরাইয়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতা আজ ও স্পষ্ট করা না গেলেও যে কোনো সময় ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এই ভাইরাস। এছাড়া ৫ লাখ মানুষের জনজীবনকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে কোভিড়-১৯। তাই সময় থাকতে অন্যসব সচেতনার পাশাপাশি চিকিৎসা ক্ষেত্রে নেওয়া প্রয়োজন অতিব জরুরি পদক্ষেপ।

প্রত্যক্ষ পরিদর্শনে দেখা যায়, উপজেলায় সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলো বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত। আর এসব মানুষজন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণে বরাবরই দারস্থ হয় মিরসরাইয়ের মস্তান নগরে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আর এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে মিরসরাই উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

কেননা এই হাসপাতালটিতে বর্তমানে ভর্তি নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন এমন রোগী ও তেমন একটা চোখে পড়ার মতো নয়। এখানে পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য আলাদা আলাদা দুইটি ওয়ার্ড রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ না করার আগে সময় থাকতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন বিশিষ্ট জনেরা।

এই হাসপাতালটিকে প্রাথমিক ধাপের করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবার উপযোগী করে সাজানোর কথা বলছেন তারা। জ্বর-সর্দি, হাঁচি-কাশির উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের জন্য আউটডোর এলাকায় আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা করার দাবি এলাকাবাসীর। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির দ্বিতীয় তলায় ৪টি বেড আইসোলেশন ইউনিটের জন্য সংরক্ষণ করে দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও হাসপাতালের যেকোনো নির্দিষ্ট ভবনে করোনাভাইরাসের রোগীদের সেবার কাজে ব্যবহার করার জন্য আলাদা করে রাখার কথা বললেন অনেকেই।

প্রতিদিন সারাদেশে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের এক নারীর (৩৩) শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে গত ১৮ এপ্রিল। এরপর থেকে সে সংখ্যা কেবলই বেড়েছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুসার এখনো পর্যন্ত মিরসরাইয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ জন।আক্রান্তদের মধ্যে কেউ অস্থায়ী বাসিন্দা আবার কেউ স্থায়ী বাসিন্দা। এদের কেউ চিকিৎসা নিচ্ছেন বাসায় থেকে আবার কেউ চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে।

এই অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ব্যবহার করা যেতে পারে আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে। কেননা আক্রান্ত রোগী যদি বাসা থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করে সেক্ষেত্রে পরিবার কিংবা সমাজের অন্যান্য সদস্যরা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়।

এই বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ২৬ জন ডাক্তার কর্মরত ছিলো। তবে চট্টগ্রাম শহরে করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় প্রায় ১৪ জন ডাক্তার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে সেখানে চলে যান এবং এখনও পর্যন্ত উনারা করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। বাকি ডাক্তারগণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ২৪ ঘন্টা চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও মিরসরাইয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের যারা বাসায় চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন তাদের নিজেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বলেও জানান তিনি।

ডা. মিজানুর রহমান আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি যদি ভয়াবহ রুপ নেয় তাহলে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা চিকিৎসার জন্য আইসোলেশনসহ আনুষাঙ্গিক বিষয়গুলো সেখানে সংযুক্ত করবো। এছাড়া তিনি বলেন, ১৯৬২ সাল থেকে চালু হওয়ার এই হাসাপাতালের ইতিহাসে এই প্রথম মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মহিলা ডাক্তারগণ রাতে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

ফার্মাসিটিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিব এসোসিয়েশন’র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার সভাপতি ইব্রাহীম ভূঁইয়া বলেন, করোনার বিস্তাররোধে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আমরা যথাযথভাবে যদি ব্যবহার করতে পারি তাহলে এর মাধ্যমে আমরা উপকৃত হতে পারবো কারণ এখানে খুবই ভালো ডাক্তার এবং সেবিকারা রয়েছেন চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য।

করোনা আক্রান্ত হলেই যে মৃত্যু অবধারিত এমনটি মানার সুযোগ নেই। তবে এর যথোপযুক্ত চিকিৎসা না থাকলেও প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যথোপযুক্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে করোনাকে জয় করছেন বেশিরভাগ আক্রান্ত রোগী। আর সে প্রেক্ষিতে মিরসরাইয়ে করোনার বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন