১৩ মার্চ ২০২৬

মিরসরাইয়ে করোনারোধে ভূমিকা রাখতে পারে বেসরকারি হাসপাতালগুলো

শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত »

করোনার মহামারি ছড়িয়ে গেছে দিগবিদিক, নিঃস্তব্ধতা বাড়িয়ে ঝরে গেছে বহুপ্রাণ। করোনা পরিস্থিতিতে মিরসরাইয়ের চিকিৎসা সেবায় নানা সম্ভবনা নিয়ে বাংলাধারার ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্বে উপজেলার বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে করোনা উপযোগী চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি জানিয়েছে বাসিন্দারা।

মিরসরাইয়ে সরকারিভাবে একটি মাত্র হাসপাতাল থাকলে ও আরো ১১ টি বেসরকারি হাসপাতাল এই অঞ্চলে প্রত্যন্ত মানুষের সুখে দুঃখে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।তবে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আগে সরকারি এবং বেসরকারি সব হাসপাতালগুলোকে করোনা উপযোগী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভা বাজারে রয়েছে প্রায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট বারইয়ারহাট কমফোর্ট হাসপাতাল এবং বারইয়ারহাট জেনারেল হাসপাতাল নামে দুইটি হাসপাতাল।এছাড়া মিঠাছড়া, মিরসরাই এবং বড়তাকিয়া বাজারগুলোতে রয়েছে আরো ৯টি হাসপাতাল যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মিরসরাই মাতৃকা হাসপাতাল, সেবা আধুনিক হাসপাতাল, মিঠাছড়া জেনারেল হাসপাতাল, ভার্ক, বিডিসিসহ আরো বেশ কয়েকটি হাসপাতাল।

এসব হাসপাতালের বেশির ভাগ ১০ শয্যা বিশিষ্ট আবার কিছু ২০ শয্যা বিশিষ্ট। করোনা এই পরিস্থিতিতে এসব হাসপাতাল অনেকটা রোগীশূন্য। তবে গর্ভবতী এবং শিশু ছাড়া তেমন একটা রোগী চোখে পড়ার মতো নয়। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব হাসপাতালে এখন থেকে পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আগে প্রস্তুতি রাখার কথা জানান সকলেই।

উপজেলার মিরসরাই পৌরসভার বাসিন্দা রহিম উদ্দিন জানান, করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক মাস দূর পাল্লার যানবাহন না থাকায় বেশির ভাগ রোগী শহরের পরিবর্তে চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন উপজেলার বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে। করোনা পরিস্থিতিকে বিবেচনায় এনে আমাদের এসব বেসরকারি হাসপাতালকে করোনা উপযোগী করা এখন সময়ের দাবি।

মিরসরাইয়ে সরকারি এবং বেসরকারি মিলে হাসপাতালগুলোতে ১৫০টি শয্যা রয়েছে।প্রত্যক্ষভাবে দেখা যায়, এগুলোর বেশির ভাগই এখন ফাঁকা। তাই পরিস্থিতি বিবেচনা এনে এসব শয্যাগুলোকে কাজে লাগানোর পরামর্শ সমাজের বিশিষ্টজনেরা।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান জানান, যদি পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে রুপ নেয় তাহলে প্রথমে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে করোনা উপযোগী চিকিৎসা কেন্দ্রে রুপান্তর করা হবে। যদি আরো অধিক প্রয়োজন পড়ে তাহলে সে ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রাম উত্তরজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন চৌধুরী তপু জানান, উপজেলার বেসরকারি হাসপাতালগুলাতে এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে নূন্যতম সংখ্যায় হলেও কিছু করোনা বেড প্রস্তুত করতে পারে। এতে করে শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমবে এবং মানুষও চিকিৎসা সেবা নিজ উপজেলায় পাবে।

মিরসরাই ডায়াগনস্টিক ও হাসপাতাল ওর্নাস এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং বারইয়ারহাট কোমফোর্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন জানান, করোনা পরিস্থিতিতে মিরসরাইয়ে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। করোনা পরিস্থিতি যদি আরো অবনতি হয় তাহলে সরকারের যে কোনো নির্দেশনা মানতে প্রস্তুত উপজেলার বেসরকারি হাসপাতালগুলো।

উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মানরাথ আহাম্মদ চৌধুরী বাবু বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা উপযোগী চিকিৎসা সেবা গড়ে তুলা অনেকটা ব্যয়বহুল। সেক্ষেত্রে সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। সবকিছু মিলিয়ে করোনা পরিস্থিতি কি সামলে নিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মিরসরাই উপজেলাব্যাপী। তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলা। কেননা সু্বিধার পাশাপাশি রয়েছে আরো নানা বিধ অসুবিধাও।

আগের নিউজটি দেখতে এখানেই ক্লিক করুন…

# করোনারোধে ভূমিকা রাখতে পারে ‘মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’

বি. দ্র. : মিরসরাই উপজেলার চিকিৎসা সেবা নিয়ে ধারাবাহিক পর্বের শেষ অংশে থাকবে চিকিৎসা সেবা নিয়ে উপজেলার সরকারি এবং বেসরকারি হাসাপাতাল গুলোতে নানা বিধ অসুবিধার কথা যেখানে রয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে ভুক্তভোগী এবং বিশিষ্ট জনদের মতামত। সে পর্যন্ত বাংলা ধারার সাথেই থাকুন।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ