১ এপ্রিল ২০২৬

মিরসরাইয়ে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ৮ জন আহত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে গাছ ও বালুবোঝাই গাড়ি থেকে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ সংঘর্ষ শুরু হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছে।

আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতরা হলো সাদ্দাম হোসেন পিন্টু, মো. আনোয়ার, ধলা মিয়া, মোহাম্মদ রাসেল, মো. ফারুকসহ ৮ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক হয়ে পূর্ব দিক থেকে আসা কাঠবোঝাই ট্রাক থেকে ১ হাজার টাকা এবং বালুবোঝাই ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলমগীর ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ কালার নেতৃত্বে এসব টাকা তোলা হতো। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আলমগীর ও মাসুদ কালাকে সরিয়ে সেখানে নুর উদ্দিনসহ কয়েকজনকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।

মঙ্গলবার টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা ফারুকের ওপর আলমগীরের লোকজন হামলা চালায়। ফারুকের ওপর হামলার খবর পেয়ে তার পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরেস্ট অফিস এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ট্রাক ও বালুবোঝাই গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জেরেই মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে বন বিভাগের এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, ফরেস্ট অফিস এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪ জন আহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আরও পড়ুন