১৭ মার্চ ২০২৬

মিরসরাইয়ে রাতে ঘরে ঢুকে প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীকে নির্যাতন!

মিরসরাইয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে মধ্যরাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে গত রোববার (৪ জুন) দিবাগত রাত ২টায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরদিন সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হামলার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমি উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মফিজ আহম্মদ মিস্ত্রির বাড়ির সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী মাহতাব উদ্দিনের স্ত্রী। পূর্বের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হামলার অভিযোগ সুমির ভাসুর তায়েফ উদ্দিন ও দেবর খায়ের উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

হামলার শিকার সুমির ভাই শাহাদাত হোসেন জানান, রোববার (৪ জুন) করেরহাট ইউনিয়নের জয়পুর পূর্বজোয়ার গ্রামের মফিজ মিস্ত্রির বাড়িতে পারিবারিক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার বোনের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে নির্যাতন চালান আপন ভাসুর তায়েফ উদ্দিন ও খায়ের উদ্দিন। তায়েফ উদ্দিন ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। মধ্যযুগীয় বর্বরতার পর আমার বোনকে রক্তাক্ত অবস্থায় তারা ঘরে আটকে রাখেন। পরে আপু ঘরের জানালা দিয়ে বের হয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহর বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে মেম্বার শহিদুল্লাহ আমার বাবাকে খবর দেন। বাবা-মা এসে মুমূর্ষু অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। আমার বোনের মাথা, চোখে ও বুকে প্রচণ্ড ব্যথার কারণে সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তারা আমার বোনের মেয়ে দুটিকেও গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। বোনের চিকিৎসা নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ব্যস্ত থাকায় এখনো থানায় অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।

গুরুতর আহত সুমিকে দেখতে যান সংযুক্ত আরব আমিরাত মিরসরাই সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এ জঘন্য নির্যাতনের কঠোর বিচার চাই। প্রবাসীদের পাশে থাকবে সকল প্রবাসী এবং মিরসরাই সমিতি সংযুক্ত আরব আমিরাত।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহ বলেন, ‘রোববার রাতে আমার ঘরের দরজায় বাড়ি দিয়ে- ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে বাঁচান’— চিৎকার শুনি। দরজা খুলে দেখি প্রবাসী মাহতাবের স্ত্রী দরজার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আমি তাকে নিয়ে তার বাড়িতে যাই। তার বাবাকে ফোন করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলি। তার ৬ বছরের শিশুটি মাকে নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তায়েফ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে আমাদের পরিবারের কারো সম্পর্ক নেই। আমি যখন ঘরে থাকি তখন সে আমার রাজনৈতিক কথাগুলো সব রেকর্ডিং করে চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়নকে পৌঁছে দেয়। রোববার দিবাগত রাতে ঘরের পিছনে কান পেতে মোবাইলে আমার কথা রেকর্ডিং করার সময় ধরা পড়ে যায়। এসময় সুমি আমার স্ত্রী বিবি মরিয়মকে মারধর করে দৌড়ে পালানোর সময় টিউবওয়েলের সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। আমার স্ত্রী জোরারগঞ্জ থানায় এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।’

১নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন জানান, ‘প্রবাসী মাহতাবের স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের বিষয়টি আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে জেনেছি। এ ধরনের ঘটনা শুনে খুবই মর্মাহত হয়েছি। একজন প্রবাসীর স্ত্রী যদি কোন অন্যায় করে তার বিচার আছে। প্রশাসন রয়েছে। গভীর রাতে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে ছোট ছোট দুটি শিশুর সামনে মাকে মারধর করা অন্যায়।’

জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত এ ধরনের কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।’

আরও পড়ুন