আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।
সোমবার নগরীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিএনপির একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এতে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এনসিপি নেতারা বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিএনপি মনোনীত একজন ব্যক্তি যদি মেয়র পদে বহাল থাকেন, তাহলে নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার সুযোগ থাকে না। এটি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ইতোমধ্যে তাঁদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকেও পদত্যাগ করতে হবে।
এনসিপির দাবি, মেয়রের মেয়াদ চলতি মাসের ২৭ তারিখে শেষ হলেও ২২ তারিখ থেকেই জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচারণা শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে মেয়র পদে বহাল থেকে দলীয় কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে নির্বাচনী পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকবে না।
এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, ডা. শাহাদাত হোসেন আগামী ২৫ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশের সমন্বয়ের দায়িত্বও পালন করছেন। একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী হয়ে মেয়র পদে বহাল থাকা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে এনসিপি জানায়, ‘চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩২ জন সন্ত্রাসীকে সিএমপি এলাকায় প্রবেশ না করতে বলা হয়েছে এবং তাদের চট্টগ্রাম ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উক্ত তালিকায় ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার মামলার বহু আসামি ও চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই বিজ্ঞপ্তি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। আমাদের মতে, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো দায়িত্বশীল অবস্থান নয়; বরং এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিজেদের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।’
নেতৃবৃন্দের প্রশ্ন, ‘যদি সিএমপির কাছে এসব সন্ত্রাসীর নাম, পরিচয় ও অবস্থান আগে থেকেই জানা থাকে, তবে এখনো কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়নি?’
‘চট্টগ্রামবাসীর অবস্থান একেবারে পরিষ্কার। আইনের শাসন কখনোই সন্ত্রাসীদের এলাকা বদলানোর সুযোগ দেওয়াকে বোঝায় না। আইনের শাসনের অর্থ হলো সন্ত্রাসী যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার করা।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রামসহ সারাদেশের সকল সন্ত্রাসীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানাচ্ছে। অন্যথায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী, ভোটার এবং চট্টগ্রামবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে আমরা বাধ্য হব।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন, জোবাইর হোছাইন, নিজাম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নগর কমিটির সদস্য মোহাম্মদ সোহরাব চৌধুরী, আজগর আলী, মোহাম্মদ আজাদ, এমদাদুল হক ও মোহাম্মদ বেলাল হোসেন। যুব শক্তি মহানগরের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদসহ আরও অনেকে।













