১৮ মার্চ ২০২৬

যশোর থেকে আসা ৭ বন্ধুর দু’জনের রহস্যজনক সলিল সমাধি, পুলিশ হেফাজতে চারবন্ধু

কক্সবাজার প্রতিনিধি  »

যশোরের কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন ৭ বন্ধুর একটি দল। উঠেছিলেন কক্সবাজার শহরের কলাতলীর ড্রীম প্যালেস ও বিচ হলিডে নামের হোটেলে।

শুক্রবার সকালে তারা এক সাথে হোটেল থেকে বেরিয়ে দুপুরে ৫জন হোটেলে ফিরে এলেও অপর দু’জন নিখোঁজ ছিলো। এদের মাঝে একজনকে ভাসন্ত অবস্থায় ওইদিন (শুক্রবার) বিকেলে সৈকতের সী-গাল পয়েন্টে পাওয়া যায়। অপরজনকে পাওয়া যায় সৈকতের নাজিররারটেক-মহেশখালী চ্যানেলের মোহনায় শনিবার।

এ ঘটনায় তাদের সঙ্গী চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার সদর থানার ওসি শেখ মুনির উল গীয়াস।

সলিল সমাধি হওয়া দু’জন হলেন, যশোর কোতোয়ালী থানা এলাকার ইবনে মিজানের ছেলে মেহের ফারাবি অভ্র (২৪)। তাকে সমুদ্র সৈকেতের নাজিরারটেক পয়েন্ট থেকে শনিবার উদ্ধার করা হয়। অপরজন একই এলাকার আসাদুজ্জামানের ছেলে নাফিজ কৌশিক (২৫)। তাকে শুক্রবার বিকেলে সৈকতের সী-গাল পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় সলিল সমাধি হওয়াদের চার বন্ধু রোহান, মাসুদ, মুহিবুল ও ফারদিনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তাদের সকলের বাড়ি যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকায়। তাদের আরেক বন্ধু আলিফ (২৪) পলাতক রয়েছে। পলাতক আলিফ যশোরের নিজামপুর এলাকার মুবিন উদ্দিনের ছেলে।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, যশোর কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে গত মঙ্গলবার কক্সবাজারে বেড়াতে আসে ৭ বন্ধু। তারা প্রথমে শহরের ড্রীম প্যালেস নামে একটি হোটেলে উঠে। সেখানে দুদিন থাকার পর বৃহস্পতিবার বীচ হলিডে নামের আরেক হোটেলে উঠে। এরপরই তাদের দু’বন্ধুর সলিল সমাধির ঘটনা ঘটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বীচ হলিডে হোটেলের এক ব্যবস্থাপক বলেন, যশোরের ৭ বন্ধু আমাদের হোটেলে বৃহস্পতিবার বুকিং নিলে ২০৭ ও ৪০৬ নাম্বার রুমে দেয়া হয়। শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তারা হোটেল থেকে বেরিয়ে যায়। দুপুরের পর হোটেলে ফিরে আসে ৫জন। তারা তখন জানিয়েছিল তাদের দু’বন্ধু নিখোঁজ রয়েছে। বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে তারা অপেক্ষা করতে থাকে। এরই মাঝে বিকেলে কৌশিকের মরদেহ পাওয়া যায়। আর শনিবার মিলেছে অভ্র’র লাশ। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশের হস্তক্ষেপে পাঁচ জনের চারজনকে সদর থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। এদের মাঝে একজন কৌশলে কোথায় যেন সটকে পড়ে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনীর উল গীয়াস বলেন, সকালে একসাথে বের হলেও দুপুরে দু’জন নিখোঁজ বলে হোটেলে ফিরলেও শৃংখলা বাহিনীর সহযোগিতা না চাওয়া সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তাদের সুরতহাল রিপোর্ট চেক করা হচ্ছে। তাই কৌশিক ও অভ্র’র সঙ্গে আসা চার বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আলিফ নামে তাদের আরেক বন্ধু পলাতক। পুলিশ তাকেও খুঁজছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

বাংলাধারা/এআই

আরও পড়ুন