কাইয়ুম চৌধুরী, সীতাকুণ্ড »
বিভিন্ন স্হানে যাওয়া আসার যাত্রী পারাপারের দুর্ভোগ লাঘবে কুমিরা-সন্দ্বীপ নৌরুটে পুরাতন জেটি সিঁড়ি ভেঙে পড়ার যাত্রীরা জেটি ব্যবহার করতে না পেরে পানি, কাদা দিয়ে কূলে উঠতে হচ্ছে। মেরামতে সময় লাগবে তাই বিকল্প জেটি তৈরির করতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানেই কুমিরা ঘাটে নতুন বিকল্প লোহার পাটাতন দিয়ে জেটি তৈরির কাজ দুয়েকদিনের মধ্যে শুরু হতে হচ্ছে। নতুনভাবে কাজ শুরু করা প্রায় ৬ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যর এ জেটির কাজ আগামী ১০/১৫ দিনের মধ্যে শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান।
বিআইডব্লিউটিএ আশরাফুজ্জামান জানান, গত ১৩ মে কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌপথের কুমিরা অংশের জেটির সিঁড়ি ভেঙ্গে সাগরে পড়ে যায়। পাশাপাশি ভেঙে না পড়া জেটির অবশিষ্ট পশ্চিম অংশের মোট ৩৬ টি পিলারের নিচের মাটি সরে গিয়ে সেটিও ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।ফলে দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ জেটিতে যাত্রী চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি জেটির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে গতকাল বুধবার থেকে সন্দ্বীপ অংশের মতো পুরোনো জেটির পাশে আনুমানিক ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থের আরেকটি নতুন জেটি নির্মাণে সরঞ্জাম আনা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে নতুন জেটি তৈরি করার জন্য শ্রমিকরা কাজ করে যাচ্ছেন। সাগরে জোয়ার থাকায় কাজ শুরু করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে তিনি আশা করছেন আগামী দম পনরো দিনের মধ্যে নতুন জেটির নির্মাণ কাজ শেষ করে তা যাত্রী চলাচলে উন্মুক্ত করার।
সোমবার কুমিরা ঘাটে থাকা বেশ কয়েকজন সন্দ্বীপগামী যাত্রীরা আক্ষেপের সুরে জানান, এক সময় কুমিরা থেকে সন্দ্বীপ অথবা সন্দ্বীপ থেকে কুমিরা যাতায়াতকারী যাত্রীদের চলতে হতো সাগরের কাদা মাড়িয়ে। সেই সময় পারাপারে ভোগান্তির শেষ ছিল না তাদের। সেই সময় পারাপারে দুর্ভোগ লাঘবে সাগর এসে কাদামাক্ত অংশে জেটি নির্মাণ প্রাণের দাবিতে পরিণত হয় দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপবাসীর। সন্দ্বীপ বাঁশির প্রাণের দাবিতে পরিণত হওয়া সেই দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে ২০০৯-১১ সালে সরকার সাগরের কাদাযুক্ত অংশে জেটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন ৬৩৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩.৬৫ মিটার প্রস্তের একটি জেটি।
নির্মাণ পরবর্তীতে ২০১২ সালে তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাহাজাহান খান জেটিটি উদ্বোধন করলে সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা খুশিতে মাতোয়ারা হন। এতে কাদা মাড়িয়ে চলার দুর্ভোগ থেকে রেহাই পান যাত্রীরা। জোয়ার কিংবা ভাটা উভয় পরিস্থিতিতেই সন্দ্বীপ পারাপারে আসা যাত্রীরা হেঁটে জেটির শেষ প্রান্তে এসে সিঁড়ি বেয়ে সোজা নৌযানে উঠে বসতেন। ফলে কোনরকম কাদা তাদের স্পর্শ করতে পারেনি। তবে দীর্ঘ এক যুগ পর গত ১৩ মে জেটিটির শেষ প্রান্তে সিঁড়ি সাগড়ে ভেঙে পড়ায় জেটির উপর থেকে আর সিঁড়ি বেয়ে নামা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জেটির অনেক আগে অবস্থিত ঘাট থেকে ফের প্যান্ট গুটিয়ে কাদা মাড়িয়ে সমুদ্রের জলসীমায় এসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। সেখানে নৌযান এসে পৌঁছানোর পর পানি ও কাদা মাড়িয়েই তাদেরকে উঠতে হচ্ছে নৌযানে।
তারা আরও জানান, মাত্র কয়েকদিন আগেও সুদৃশ্য যে জেটি হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী আসা যাওয়া করত সেই জেটিটি এখন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যার ফলে পারাপারে আবারও কাদা মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে তাদের। এতে পারাপারের ভোগান্তিতে পড়া সন্দ্বীপগামী যাত্রীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পারাপারে নতুনভাবে বিকল্প জেটি তৈরীর কাজ শুরু হওয়ায় যাত্রীদের মাঝে পূনরায় আশার আলোর সঞ্চার হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তাদের বেঁধে দেওয়া নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে জেটির কাজ শেষ করলে ভোগান্তি থেকে পরিত্রাণ পাবেন বলেও মন্তব্য করেন তারা।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, কুমিরা ঘাটের জেটিটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় আমরা ঈদের আগেই যাত্রীদের উদ্দেশ্যে সতর্কীকরণ নোটিশ দিয়েছিলাম। জেটির ৩৬টি পিলারের নিচের মাটি সরে গিয়ে নড়বড়ে হওয়ার পাশাপাশি গত ১৩ মে বৃহস্পতিবার জেটির শেষপ্রান্তের সিঁড়ি ভেঙে যায়। এরপর যাত্রী পারাপারে জেটির প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে পারাপারে থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে বিকল্প জেটি নির্মাণের কাজ চলতি সপ্তাহ থেকে শুরু করা হয়েছে। নতুনভাবে নির্মিত এ জেটির প্রাক্কলিক বাজেট ধরা হয়েছে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা।যা আগামী দশ পনেরো দিনের মধ্যে শেষ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সন্ধীপ যাত্রী মো. খোকন জানান, পূর্বের জেটিটি টেকসই ভাবে নির্মান করা হয়নি, ফাইলিং এর গভীরতা ছিলনা, কাজও ছিল নির্মমানের, ফলে ১০ বছরেই জেটিটি পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে, সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটেও একই সময়ে নির্মিত জেটিটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।এখানে কমপক্ষ ৫০ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে জেটি নির্মাণ হওয়া দরকার।












