জাতীয় সংসদ ভবন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ স্বাধীনতার পর থেকে বহমান। আগ্রহ থাকবেই না বা কেন! প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সংবিধান প্রদত্ত নিজেদের নাগরিক অধিকার তথা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারা ৩০০ জন আইন প্রণেতা নির্বাচিত করে সংসদ ভবনে পাঠায় দেশ ও জাতির সামষ্টিক কল্যাণে অবদান রাখার জন্য। সংসদ তথা পার্লামেন্ট অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য অর্থাৎ আইন প্রণেতারা পার্লামেন্টের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী স্পিকারের উপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে জাতীয় ও জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন এবং বিল আনয়ন করেন। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের কণ্ঠভোটে উক্ত বিলসমূহ পাশ হয়।
সংসদ সচিবালয়ে আমার শ্রদ্ধেয় পিতার কর্মস্থলের সুবাদে অসংখ্যবার বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই পার্লামেন্ট ভবন এবং পার্লামেন্ট অধিবেশন দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। নাখালপাড়া এমপি হোস্টেল থেকে বাবার সাথে গাড়িতে করে সংসদ ভবনে আসতাম। বাবার অফিস ছিল সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্লাজার ৮ম তলায়। আমি সাবেক স্পিকার মরহুম জনাব শেখ রাজ্জাক আলী, সাবেক স্পিকার মরহুম জনাব হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, স্পিকার জনাব ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, স্পিকার এবং পরে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব আবদুল হামিদ সাহেব সংসদের স্পিকার থাকাকালীন পার্লামেন্ট অধিবেশন অবলোকন করি। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের হট্টগোলের সময় স্পিকারদের হাতুড়ি পেটানো আমার কাছে ছিল খুবই দর্শনীয়।
খুব সম্ভবত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় (আমার স্মৃতিশক্তি যদি আমার সাথে প্রতারণা না করে) আমি প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশন অবলোকন করি পার্লামেন্টের দর্শক গ্যালারিতে বসে। প্রথম অবস্থায় তেমন কিছু বুঝতে না পারলেও পরে বয়সের পরিপক্কতায় রাজনীতির জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর এই পার্লামেন্ট অধিবেশন আমার কাছে দুর্বার আকর্ষণে পরিণত হয়।
সংসদের প্রবেশমুখে সুসজ্জিত ও সুদর্শন “সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস”দের নজরকাড়া উপস্থিতি আমাকে দারুণভাবে সম্মোহিত করত। সবচেয়ে বেশি সম্মোহিত করত আমার পিতার পরিচয় করিয়ে দেওয়া বিখ্যাত সাংবাদিক প্রয়াত নির্মল সেন সাহেব। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ এবং পরিপাটি পোশাকে প্রগাঢ় ব্যক্তিত্বের স্ফুলিঙ্গ ঠিকরে বের হতো নির্মল সেন সাহেবের অবয়বে। তিনি পার্লামেন্টে অধিবেশন চলাকালীন প্রতিদিন আসতেন এবং সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত গ্যালারিতে বসে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি খাতায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো লিখে রাখতেন। প্রয়াত আরেক বিখ্যাত সাংবাদিক শাহজাহান সরদার সাহেবকেও দেখেছিলাম পার্লামেন্ট অধিবেশন কাভার করতে। দুজনেই বাবার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন, সংসদে বাবার অফিসে আসতেন। স্পিকারকে কীভাবে সম্পূরক নোটিশ দিতে হয়, কার্যপ্রণালী বিধি কীভাবে অনুসরণ করতে হয় এবং সংসদ অধিবেশন সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বাবা নতুন সংসদ সদস্যদের ক্লাস নিতেন। সাবেক আইনমন্ত্রী মরহুম জনাব আব্দুল মতিন খসরু সাহেব, ময়মনসিংহের গাফরগাঁওয়ের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম জনাব আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ সাহেব, সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু সাহেবের কথা এখনো মনে পড়ে। পরবর্তীতে আব্দুল মতিন খসরু সাহেবের সাথে বাবার এই হৃদ্যতা উভয়ের পারিবারিক মণ্ডলেও স্থান করে নেয়।
সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা হৃদয়ে আজও অম্লান :
সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্ট তথা সংসদ অধিবেশনকে প্রাণবন্ত করে রাখতেন সেই সময়। সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্মৃতিতে যারা আজও জাগরুক তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য মরহুম জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব, মরহুম জনাব এম কে আনোয়ার সাহেব, মরহুম জনাব ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব, আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য জনাব বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাহেব, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম জনাব আব্দুল মতিন খসরু সাহেব, সাবেক সংসদ সদস্য জনাব আসম ফিরোজ, জেপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেব, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী সাবেক সংসদ সদস্য জনাব আসম আব্দুর রব সাহেব।
উল্লেখিতদের ক্ষুরধারা যৌক্তিক যুক্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ তর্ক-বিতর্কে সংসদ অধিবেশন প্রাণবন্ত হয়ে উঠত।
বিশেষ করে স্পিকার যখন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তৃতার জন্য বিএনপি’র সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব এবং আওয়ামী লীগের বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাহেবের নাম ঘোষণা করতেন তখন সমগ্র পার্লামেন্টে নেমে আসত পিনপতন নিস্তব্ধতা। নড়েচড়ে বসতেন সকল সংসদ সদস্যসহ সাংবাদিক এবং দর্শক গ্যালারিতে থাকা সকলেই। এই দুই অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানের ক্ষুরধারা যৌক্তিক যুক্তি-পাল্টা যুক্তি সংসদের দর্শক গ্যালারিসহ পুরো সংসদকে সম্মোহিত করে রাখত এবং সংসদের স্পিকার এই দুই অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে সময়ও বেশি দিতেন।
সংসদের লাইব্রেরি :
আমার দৃষ্টিতে জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী। এত সমৃদ্ধশালী এবং পরিপাটি লাইব্রেরি খুব কমই আছে বলে আমার কাছে মনে হয়। আমার পিতা প্রচুর লাইব্রেরি ওয়ার্ক করতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতেন এ বিশাল সমৃদ্ধশালায়। মাঝে মাঝে আমিও থাকতাম। তবে এই বিশাল সমৃদ্ধশালী লাইব্রেরিতে হাতেগোনা কয়েকজন সংসদ সদস্য ব্যতীত অন্য সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বিএনপির মরহুম জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব, মরহুম জনাব এম কে আনোয়ার সাহেব, মরহুম জনাব ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব, আওয়ামী লীগের প্রয়াত বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাহেব, মরহুম জনাব আব্দুল মতিন খসরু সাহেব, জেপির জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেব নিয়মিত লাইব্রেরিতে আসতেন। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক এক রাষ্ট্রপতি (সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ করছি না) ও তাঁর সাথে একজন নিয়মিত আসতেন, তবে তারা লাইব্রেরি ওয়ার্ক না করে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতেন। বেগম জেবুন্নেসা নামে একজন লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। তাঁকে আমি আন্টি ডাকতাম। যতটুকু জেনেছি তিনি এখনো আছেন।
সংসদে প্রবেশের পাশের জন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হুমড়ি খাওয়া :
এমপি হোস্টেল থেকে বাবার সাথে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে সংসদে প্রবেশের মুখে পৌঁছালে প্রায় সময় দেখতাম গাড়ি ঘিরে ধরত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা এবং বাবার কাছে আবদার করত সংসদে প্রবেশের পাশের জন্য। বাবাও হাসিমুখে তাদের আবদার মেটাতেন।
সংসদ সন্নিহিত লেকের সেই বিশাল মাছগুলো :
জাতীয় সংসদ সন্নিহিত নয়নাভিরাম লেকের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধকর। এই লেকে প্রচুর মাছ রয়েছে। বছরে একবার লেকের মাছগুলো ধরা হতো। প্রায় প্রতিটি মাছের ওজন ছিল ৭ থেকে ৮ কেজি। মাছগুলো ছিল অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট এবং দৃষ্টিনন্দন।
আজ ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে বাবাকে ফোনে আমন্ত্রণ জানানোর সংবাদ পাওয়ার পর স্মৃতির মানসপটে বারবার ভেসে উঠছিল সেই দিনগুলো। দেশের মানুষের প্রত্যাশা সংসদ বর্জনের রীতি পরিহার করে রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশিত একটি প্রাণবন্ত ও কার্যকর সংসদ অধিবেশন জাতিকে উপহার দিয়ে জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।
লেখক: তানভীর আহমেদ
(গণমাধ্যম কর্মী)
যেমন দেখেছিলাম পার্লামেন্ট অধিবেশন
জাতীয় সংসদ ভবন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ স্বাধীনতার পর থেকে বহমান। আগ্রহ থাকবেই না বা কেন! প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সংবিধান প্রদত্ত নিজেদের নাগরিক অধিকার তথা ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তারা ৩০০ জন আইন প্রণেতা নির্বাচিত করে সংসদ ভবনে পাঠায় দেশ ও জাতির সামষ্টিক কল্যাণে অবদান রাখার জন্য। সংসদ তথা পার্লামেন্ট অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য অর্থাৎ আইন প্রণেতারা পার্লামেন্টের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী স্পিকারের উপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে জাতীয় ও জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন এবং বিল আনয়ন করেন। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের কণ্ঠভোটে উক্ত বিলসমূহ পাশ হয়।
সংসদ সচিবালয়ে আমার শ্রদ্ধেয় পিতার কর্মস্থলের সুবাদে অসংখ্যবার বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এই পার্লামেন্ট ভবন এবং পার্লামেন্ট অধিবেশন দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। নাখালপাড়া এমপি হোস্টেল থেকে বাবার সাথে গাড়িতে করে সংসদ ভবনে আসতাম। বাবার অফিস ছিল সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম প্লাজার ৮ম তলায়। আমি সাবেক স্পিকার মরহুম জনাব শেখ রাজ্জাক আলী, সাবেক স্পিকার মরহুম জনাব হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী, স্পিকার জনাব ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, স্পিকার এবং পরে বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব আবদুল হামিদ সাহেব সংসদের স্পিকার থাকাকালীন পার্লামেন্ট অধিবেশন অবলোকন করি। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের হট্টগোলের সময় স্পিকারদের হাতুড়ি পেটানো আমার কাছে ছিল খুবই দর্শনীয়।
খুব সম্ভবত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় (আমার স্মৃতিশক্তি যদি আমার সাথে প্রতারণা না করে) আমি প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশন অবলোকন করি পার্লামেন্টের দর্শক গ্যালারিতে বসে। প্রথম অবস্থায় তেমন কিছু বুঝতে না পারলেও পরে বয়সের পরিপক্কতায় রাজনীতির জ্ঞান-বুদ্ধি হওয়ার পর এই পার্লামেন্ট অধিবেশন আমার কাছে দুর্বার আকর্ষণে পরিণত হয়।
সংসদের প্রবেশমুখে সুসজ্জিত ও সুদর্শন “সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস”দের নজরকাড়া উপস্থিতি আমাকে দারুণভাবে সম্মোহিত করত। সবচেয়ে বেশি সম্মোহিত করত আমার পিতার পরিচয় করিয়ে দেওয়া বিখ্যাত সাংবাদিক প্রয়াত নির্মল সেন সাহেব। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ এবং পরিপাটি পোশাকে প্রগাঢ় ব্যক্তিত্বের স্ফুলিঙ্গ ঠিকরে বের হতো নির্মল সেন সাহেবের অবয়বে। তিনি পার্লামেন্টে অধিবেশন চলাকালীন প্রতিদিন আসতেন এবং সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারিত গ্যালারিতে বসে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি খাতায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো লিখে রাখতেন। প্রয়াত আরেক বিখ্যাত সাংবাদিক শাহজাহান সরদার সাহেবকেও দেখেছিলাম পার্লামেন্ট অধিবেশন কাভার করতে। দুজনেই বাবার খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন, সংসদে বাবার অফিসে আসতেন। স্পিকারকে কীভাবে সম্পূরক নোটিশ দিতে হয়, কার্যপ্রণালী বিধি কীভাবে অনুসরণ করতে হয় এবং সংসদ অধিবেশন সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে বাবা নতুন সংসদ সদস্যদের ক্লাস নিতেন। সাবেক আইনমন্ত্রী মরহুম জনাব আব্দুল মতিন খসরু সাহেব, ময়মনসিংহের গাফরগাঁওয়ের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম জনাব আলতাফ হোসেন গোলন্দাজ সাহেব, সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু সাহেবের কথা এখনো মনে পড়ে। পরবর্তীতে আব্দুল মতিন খসরু সাহেবের সাথে বাবার এই হৃদ্যতা উভয়ের পারিবারিক মণ্ডলেও স্থান করে নেয়।
সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা হৃদয়ে আজও অম্লান :
সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা পার্লামেন্ট তথা সংসদ অধিবেশনকে প্রাণবন্ত করে রাখতেন সেই সময়। সংসদ সদস্যদের মধ্যে স্মৃতিতে যারা আজও জাগরুক তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্য মরহুম জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব, মরহুম জনাব এম কে আনোয়ার সাহেব, মরহুম জনাব ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব, আওয়ামী লীগের প্রয়াত সংসদ সদস্য জনাব বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাহেব, সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম জনাব আব্দুল মতিন খসরু সাহেব, সাবেক সংসদ সদস্য জনাব আসম ফিরোজ, জেপি নেতা সাবেক সংসদ সদস্য জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেব, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী সাবেক সংসদ সদস্য জনাব আসম আব্দুর রব সাহেব।
উল্লেখিতদের ক্ষুরধারা যৌক্তিক যুক্তি ও বন্ধুত্বপূর্ণ তর্ক-বিতর্কে সংসদ অধিবেশন প্রাণবন্ত হয়ে উঠত।
বিশেষ করে স্পিকার যখন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বক্তৃতার জন্য বিএনপি’র সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব এবং আওয়ামী লীগের বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাহেবের নাম ঘোষণা করতেন তখন সমগ্র পার্লামেন্টে নেমে আসত পিনপতন নিস্তব্ধতা। নড়েচড়ে বসতেন সকল সংসদ সদস্যসহ সাংবাদিক এবং দর্শক গ্যালারিতে থাকা সকলেই। এই দুই অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানের ক্ষুরধারা যৌক্তিক যুক্তি-পাল্টা যুক্তি সংসদের দর্শক গ্যালারিসহ পুরো সংসদকে সম্মোহিত করে রাখত এবং সংসদের স্পিকার এই দুই অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানকে সময়ও বেশি দিতেন।
সংসদের লাইব্রেরি :
আমার দৃষ্টিতে জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী। এত সমৃদ্ধশালী এবং পরিপাটি লাইব্রেরি খুব কমই আছে বলে আমার কাছে মনে হয়। আমার পিতা প্রচুর লাইব্রেরি ওয়ার্ক করতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাতেন এ বিশাল সমৃদ্ধশালায়। মাঝে মাঝে আমিও থাকতাম। তবে এই বিশাল সমৃদ্ধশালী লাইব্রেরিতে হাতেগোনা কয়েকজন সংসদ সদস্য ব্যতীত অন্য সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল খুবই কম। বিএনপির মরহুম জনাব সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেব, মরহুম জনাব এম কে আনোয়ার সাহেব, মরহুম জনাব ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব, আওয়ামী লীগের প্রয়াত বাবু শ্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাহেব, মরহুম জনাব আব্দুল মতিন খসরু সাহেব, জেপির জনাব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাহেব নিয়মিত লাইব্রেরিতে আসতেন। এছাড়াও বাংলাদেশের প্রয়াত সাবেক এক রাষ্ট্রপতি (সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ করছি না) ও তাঁর সাথে একজন নিয়মিত আসতেন, তবে তারা লাইব্রেরি ওয়ার্ক না করে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতেন। বেগম জেবুন্নেসা নামে একজন লাইব্রেরিয়ান ছিলেন। তাঁকে আমি আন্টি ডাকতাম। যতটুকু জেনেছি তিনি এখনো আছেন।
সংসদে প্রবেশের পাশের জন্য রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের হুমড়ি খাওয়া :
এমপি হোস্টেল থেকে বাবার সাথে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে সংসদে প্রবেশের মুখে পৌঁছালে প্রায় সময় দেখতাম গাড়ি ঘিরে ধরত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা এবং বাবার কাছে আবদার করত সংসদে প্রবেশের পাশের জন্য। বাবাও হাসিমুখে তাদের আবদার মেটাতেন।
সংসদ সন্নিহিত লেকের সেই বিশাল মাছগুলো :
জাতীয় সংসদ সন্নিহিত নয়নাভিরাম লেকের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধকর। এই লেকে প্রচুর মাছ রয়েছে। বছরে একবার লেকের মাছগুলো ধরা হতো। প্রায় প্রতিটি মাছের ওজন ছিল ৭ থেকে ৮ কেজি। মাছগুলো ছিল অত্যন্ত হৃষ্টপুষ্ট এবং দৃষ্টিনন্দন।
আজ ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে বাবাকে ফোনে আমন্ত্রণ জানানোর সংবাদ পাওয়ার পর স্মৃতির মানসপটে বারবার ভেসে উঠছিল সেই দিনগুলো। দেশের মানুষের প্রত্যাশা সংসদ বর্জনের রীতি পরিহার করে রাজনৈতিক দলগুলোর সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশিত একটি প্রাণবন্ত ও কার্যকর সংসদ অধিবেশন জাতিকে উপহার দিয়ে জাতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।
লেখক: তানভীর আহমেদ
(গণমাধ্যম কর্মী)
আরও পড়ুন
আনোয়ারা রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার মাহফিল সম্পন্ন
চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ, বর-কনেসহ ১৩ জন নিহত
ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মিরসরাই যুবদল নেতার
এ সম্পর্কিত আরও
আনোয়ারায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নতুন কার্যালয় উদ্বোধন
বন্দরের অনুমোদন অগ্রাহ্য! বালুমহাল নিয়ে সিএমপি–ব্যবসায়ী দ্বন্দ্ব
চট্টগ্রাম নগরীর নামী বেকারি-রেস্তোরাঁয় ভয়ংকর চিত্র
শিল্পকলা একাডেমিতে স্বতন্ত্র আবৃত্তি বিভাগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
সর্বশেষ
আনোয়ারা রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার মাহফিল সম্পন্ন
যেমন দেখেছিলাম পার্লামেন্ট অধিবেশন
চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
বাগেরহাটে বাস-মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ, বর-কনেসহ ১৩ জন নিহত
ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মিরসরাই যুবদল নেতার