বাংলাধারা প্রতিবেদন »
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর উদ্যোগে বিশ্ব মা দিবস ২০২০ উপলক্ষ্যে চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর প্রেসিডেন্ট ও এফবিসিসিআই এর প্রাক্তন ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মনোয়ারা হাকিম আলী’র সঞ্চালনায় ‘করোনা মহামারীতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মা’দের ভূমিকা’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনায় মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, একজন সচেতন মা’ই পারেন যেকোন বিপদ থেকে তার পরিবারকে রক্ষা করতে। পাশাপাশি দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অবরুদ্ধ অবস্থাতেও একসাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মানের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, যে দেশের নারী শক্তি জাগ্রত সে দেশের উন্নয়ন হবেই।
শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে চিটাগাং উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অনুষ্ঠানের কনভেনার আবিদা মোস্তফা বলেন, করোনার এই ক্রান্তিকালে পরিবারের সুরক্ষায় মায়েদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মানসিক ও স্বাস্থ্য বিকাশে মায়েরা অগ্রনী ভূমিকা পালন করবেন।
এছাড়াও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম সকল মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, গত বছর আমার মা ছিল। এ বছর আর মায়ের সাথে কাটাতে পারছি না। তাই যাদের মা এখনো বেঁচে আছেন তারা মায়েদের সেবা করার সুযোগটি হারাবেন না। পাশাপাশি যেকোন প্রয়োজনে চিটাগাং উইম্যান চেম্বারের সাথে আছেন বলেও জানান তিনি।
লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনাল এর জেলা ৩১৫-বি ফোর এর গভর্নর লায়ন কামরুন মালেক বলেন, আমি এখনো ভাগ্যবান যে আমার মা বেঁচে আছেন এবং আমি তার সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি। যদি প্রতিটি ঘরে শাশুড়ি এবং বউদের সম্পর্ক মা এবং মেয়ের মত হয় তবে শান্তি চিরস্থায়ী হবে।
দ্যা কনফেডারেশন অব এশিয়া প্যাসিফিক চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি উইম্যান এন্টারপ্রেনার কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন মুক্তা নন্দিনী বলেন, এই ভাইরাস আরো দীর্ঘদিন ধরে থাকার সম্ভাবনা আছে। কাজেই এই দীর্ঘ সময় ধরে পরিবারকে নিরাপদে রাখার জন্য মায়েদের ভূমিকা পালন করতে হবে।
এফবিসিসিআই এর পরিচালক ও সিরাজগঞ্জ উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর প্রেসিডেন্ট শারিতা মিল্লাত বলেন, কর্মজীবি নারীদের এত দীর্ঘ সময় কখনোই ঘরে থাকা হয়নি। তাই এই সময়টা মানিয়ে নিতে অনেক মানষিক চাপের সৃষ্টি হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক নারীকে নিজের মত করে কিছুটা সময় বের করে নিতে হবে।
এসোসিয়েশান অফ ফ্যাশন ডিজাইনার্স অফ বাংলাদেশ এর প্রেসিডেন্ট মানতাসা আহমেদ বলেন, এই সময়টায় বাচ্চাদের সময় দিতে হবে। পরিবারের সবার মানসিক বিকাশের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
বিশিষ্ট রন্ধন বিশারদ নাহিদ ওসমান বলেন, মায়েদের এই সময়ে আরো বেশি স্বাস্ব্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। ভিটামিন সি, ডি, জিঙ্ক সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এমন খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
বিশিষ্ট রুপ বিশেষজ্ঞ ও পারসোনা বিউটি পার্লারের স্বত্তাধিকারী কানিজ আলমাস খান বলেন, করোনা আমাদের থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিলেও অনেক কিছু ফিরিয়ে দিয়েছে। জীবনের মূল্যবোধগুলো বুঝতে শিখিয়েছে। আমাদের উচিৎ এই মূল্যবোধগুলো এমনভাবে চর্চা করা যেন তা পরবর্তী প্রজন্মের মাঝেও সঞ্চারিত হয়।
চিটাগাং উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর পরিচালক আয়েশা আক্তার ডালিয়া বলেন দীর্ঘদিন ঘরে থাকার কারণে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়তে পারেন। এই সময় মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।
আন্তর্জাতিক ইয়োগা বিশেষজ্ঞ নাহেদ পারভীন রানী লকডাউনের সময়ে চর্চার জন্য ঘরোয় কিছু ব্যয়ামের নমুনা দেখান।
আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইম্যান এর উপাচার্য অধ্যাপিকা নির্মলা রাও, প্রাক্তন সংসদ সদস্য সাবিহা নাহার বেগম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেন সিলেট উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর প্রেসিডেন্ট স্বর্ণলতা রায়, চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রেখা আলম চৌধুরী, পরিচালক সুলতানা নুরজাহান রোজী, নুজহাত নুয়েরী কৃষ্টি, শামিলা রিমা, শাহেলা আবেদীন, সদস্য কাজী জুবায়রা সাকী জিপসী, বেবি হাসান প্রমূখ।
অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন চিটাগাং উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও অনুষ্ঠানের কো-কনভেনার ডাঃ মুনাল মাহবুব।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












