শাহ আব্দুল্লাহ আল রাহাত »
দেশের অর্থনীতিতে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, যেখানে করোনা পরিস্থিতি শুরুর আগে দেশের ২৭ লাখ লোক ছিল বেকার। দেশে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যম যাতায়াত সেবা চালু হয় ২০১৫ সালে মে মাস থেকে। যেখানে উবার, পাঠাও, সহজ, পিকমি, ওভাইসহ অনেক অ্যাপ এই যাতায়াত সেবা দিয়ে আসছে।
বিটিআরসি এর তথ্য মতে, এখনো পর্যন্ত দেশে ১২ টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান রাইডিং সেবা দিতে লাইন্সেস নিয়েছে। তবে পাঠাও এবং উবার সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে । পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ওঠে এসেছে, অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবাগুলোর প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে।
দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে এই রাইড শেয়ারিং সেবা চালু রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি উপ-শহরেও এই সেবা বিদ্যমান। তবে করোনা পরিস্থিতিতে অনেকটা আগের চেয়ে কমে গেছে এই সেবার সাথে যুক্ত থাকা চালকদের আয়। আগে যেখানে দিনে রাইডিং সেবা দিয়ে একজন চালক নিয়মিত আয় করতেন ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা। এই আয় মাস শেষে ১৬ থেকে ২২ হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়াতো। একজন যুবক অনায়াসে তার পরিবার নিয়ে জীবনও জীবিকা অতি সহজেই নির্বাহ করতে পারতো।
করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে দিনে ১০০ টাকা আয় করতেও হিমসিম খেতে হয় অনেক চালকে। চট্টগ্রাম মহানগরে রাইড শেয়ারিং সেবার সাথে যুক্ত রাইডার মোঃ জাহিদ বাংলাধারাকে জানান, করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে আয় নেই বললে চলে। তিনি জানান, গত দুইদিন সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাইড শেয়ার করে ইনকাম হয়েছে মাত্র ১২০ টাকা।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে রাইড শেয়ারিং সেবার উপর ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করেছে সরকার। এতে করে চালকদের আয়ের ২৫ শতাংশ শেয়ার করতে হয় সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে। আগে যেটি ছিলো ২০ শতাংশ।
অন্যদিকে রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো থেকে আয় করা চালকদের যেমন আয় কমেছে ঠিক তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ঝুঁকি। কেননা সেবা দানকারী অ্যাপগুলোর সাথে ২৫ শতাংশ আয় শেয়ার করতে রাজি নন চালকরা। তাই অ্যাপের মাধ্যমে সেবা না দিয়ে অন্যান্য যানবাহনগুলোর মতো কথাবার্তার মাধ্যমে যাত্রী সেবা দিতে দেখা যায় এসব চালকদের। যেখানে নিরাপত্তা জনিত ঘাটতি থেকেই যায়।
চট্টগ্রাম মহানগরের জিইসি, একে খাঁন, প্রবর্তক মোড, চকবাজারসহ আরো বিভিন্ন স্থানে বাইক নিয়ে ডেকে ডেকে যাত্রী সেবা দিতে দেখা যায় এসব রাইড শেয়ারিং অ্যাপের সাথে যুক্ত চালকদের।
তবে এই বিষয়ে রাইডার তপু বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে চালকের সংখ্যা। এছাড়া অনেকেই রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলোর মাধ্যমে কোনো প্রকার রেজিষ্ট্রেশন, লাইসেন্স ছাড়াই সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে যারা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যুক্ত তারা অ্যাপের মাধ্যমে সেবা দিয়ে থাকেন।
নাম প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নয় এমন অন্য আরেকজন রাইডার বলেন, আগে যেখানে রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলো বেসিক পেয়ার হিসেবে ২৫ টাকা, ওয়েটিং চার্জ হিসেবে ৫০ পয়সা এবং প্রতি কিলোমিটারে ১২.৫০ টাকা করে চার্জ দিতো প্রতিটি রাইডারকে তবে সেখানে সুবিধাগুলো বর্তমানে নেই বললে চলে। তাই অনেকে অ্যাপের মাধ্যমে সেবা না দিয়ে অফলাইনে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সংযোগ স্থাপন করা যায়নি।
তবে এভাবে অফলাইনে সেবা দেওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন যাত্রীরা। কেননা এখানে যাত্রীদের কোনো প্রকারের নিরাপত্তা বজায় থাকার সুযোগ নেই। এছাড়া অনেক অনিবন্ধিত চালক এই সেবার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।
নিয়মিত রাইডিং সেবা নেওয়া সাঈদ ইমন জানান, অফলাইনে রাইড সেবা নেওয়ার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি অসুবিধাও আছে। কেননা, অফলাইনে যাওয়ার মাধ্যমে যাত্রীদের কোনো প্রকারের তথ্য রাইড শেয়ারিং অ্যাপগুলোর কাছে থাকে না। এতে করে নিরাপত্তা জনিত সমস্যা থেকে যায়। বিশেষ করে নারী যাত্রীদের ক্ষেত্রে অফলাইন সেবা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












