১৫ জানুয়ারি ২০২৬

রাউজানে আমার ১৩ জন অনুসারীকে হত্যা করা হয়েছে: সাবেক এমপি গিয়াস কাদের

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান ও রাউজান–রাঙ্গুনিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, রাউজানে আওয়ামী দোসর ও পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে তার অনুসারী ১৩ জন নেতা-কর্মীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে এখনও অস্ত্র আসা বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, দেশে বর্তমানে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বিরাজ করছে, তবে রাউজানে এখনও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজমান।

গিয়াস কাদের চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর রাউজান আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের গুম, খুন, ধর্ষণ ও অকথ্য নির্যাতনের যাঁতাকলে পিষ্ট ছিল। ৫ আগস্ট ২০২৪ ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব বিপ্লবের মাধ্যমে রাউজান আওয়ামী ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে বলে মনে করা হলেও বাস্তবে আজও রাউজান মুক্ত হয়নি। এই সময়ে প্রকৃত ও সাচ্চা বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা চরম দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছেন।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে রাউজানে বিএনপির প্রকৃত নেতা-কর্মীদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়েছে। মিথ্যা মামলা, অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, গুলি করে হত্যা এবং জুমার নামাজের সময় মসজিদ থেকে টেনে বের করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, সেই সময়ে বিএনপির একজন সাধারণ সমর্থক পর্যন্ত রাউজানে থাকতে পারেননি। অনেক নেতা-কর্মী মা-বাবার দাফন-কাফন, জানাজা, ঈদের নামাজ এমনকি ধর্মীয় ও সামাজিক আচার পালন থেকেও বঞ্চিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস কাদের অভিযোগ করেন, রাউজানে বিএনপি দাবিদার একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী তৎকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে আতাঁত করে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিরাপদ জীবনযাপন করেছে। শুধু তাই নয়, চট্টগ্রাম শহরে অবস্থানরত তার নেতা-কর্মীদের বাসা ও শ্বশুরবাড়ির ঠিকানা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নির্দেশে পুলিশকে সরবরাহ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নুরুল আলম নূরুকে রাতের আঁধারে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়, হেজা হাসেমকে পিটিয়ে এবং মুসাকে মসজিদ চত্বরে মুসল্লিদের সামনে হত্যা করা হয়। অথচ সে সময় ওই ‘বি-টিম’ কোনো প্রতিবাদ তো করেনিই, বরং আওয়ামী লীগের সঙ্গে উল্লাসে মেতে উঠেছিল।

গিয়াস কাদের বলেন, ২০১৭ সালে পবিত্র রমজান মাসে ফটিকছড়ির এক জনসভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের জেরে চট্টগ্রাম নগরীর গুডস হিলের বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে ছয় মাস কারাভোগ করতে হয় এবং মাত্র ২০ মিনিটের শুনানিতে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলায় তার বড় ভাই, উপমহাদেশের প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান শহীদ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও হত্যা করা হয়েছে। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রাউজানে তার গাড়িতে চারবার গুলিবর্ষণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ৫ আগস্টের পর রাউজানে মোট ১৯টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন তার অনুসারী এবং বাকি ৬ জন পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতার শিকার। সর্বশেষ নিহত হয়েছেন ক্যান্সার রোগী যুবদল নেতা জানে আলম সিকদার।

তিনি বলেন, তার অনুসারী ১৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে শুধু বিএনপির আদর্শ ও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বিরোধী অবস্থানের কারণে।

গিয়াস কাদের চৌধুরী রাউজানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটি থেকে আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী গোষ্ঠীর সন্তানকে অপসারণ, জানে আলম সিকদার হত্যাকাণ্ডসহ সব হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন,
“রাউজানে আর কত মায়ের বুক খালি করলে শান্ত হবে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা এই গোষ্ঠী?”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক এনাম, উত্তর জেলা বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, বিএনপি নেতা নুরুল হুদা, মোহাম্মদ ফিরোজ, যুবদলের সহ-সভাপতি সাবের সুলতান কাজলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ