৫ আগস্টের পর সমগ্র বাংলাদেশের বহুল আলোচিত উপজেলা রাউজান তথা চট্টগ্রাম-৬ আসনে অবশেষে ধানের শীষের চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি।
সমগ্র চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের নানা জল্পনা-কল্পনা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের রাজনৈতিক সমীকরণের অবসান ঘটিয়ে গত ১৯ জানুয়ারি অবশেষে এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশন বরাবর দলীয় চিঠি প্রদান করা হয়েছে।
১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এই চিঠি চট্টগ্রাম জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেন বিএনপির প্রয়াত নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর রাজনৈতিক সচিব এম. এ. মাসুদের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল।
দলীয় চিঠি হস্তান্তর শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এম. এ. মাসুদ বলেন, “মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপনের পাশাপাশি বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারা নির্যাতিত ও ১৭ বছর যাবৎ প্রতিপক্ষ দ্বারা নিপীড়নের শিকার জনাব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সাহেবকে রাউজানের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রদানের জন্য।”
ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে। গত ৪ ডিসেম্বর গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে রাউজানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দলীয় হাইকমান্ড। এর প্রেক্ষিতে গত ১৮ ডিসেম্বর গিয়াস কাদেরের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।
কিন্তু হঠাৎ করেই গত ২৮ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খন্দকারকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি প্রদান করা হয়। আর এই নিয়ে রাউজানসহ সমগ্র বাংলাদেশের বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
২৯ ডিসেম্বর গিয়াস কাদের ও গোলাম আকবর উভয়েই মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং ৩ জানুয়ারি উভয়েরই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। একই আসনে দুইজন প্রার্থীর মধ্যে কে হবেন বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তা নিয়ে চট্টগ্রাম বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে আলোচনার অন্ত ছিল না। উভয় নেতার অনুসারীরাও ছিলেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
তবে গত ৯ জানুয়ারি গুডস হিলের বাসভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান,
“দলের হাইকমান্ড থেকে তিনি গ্রিন সিগনাল পেয়েছেন এবং তিনিই হতে যাচ্ছেন রাউজানে বিএনপির প্রার্থী।”
শেষ পর্যন্ত গিয়াস কাদের চৌধুরীর কথার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে ১৯ জানুয়ারি। দলীয় হাইকমান্ড রাউজানে খন্দকার নয়, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর উপরেই আস্থা রাখেন।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের পর দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গিয়াস কাদের ও গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারীদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। এই সময় রাউজান উপজেলায় ১৯ জন ব্যক্তি হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর মধ্যে ১৩ জনই গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী এবং বাকি ৬ জন পারিবারিক ও সামাজিক সহিংসতার কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।













