১৯ মার্চ ২০২৬

রাঙামাটিতে বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে গিয়ে শ্রমিকের মৃত্যু; স্বজনদের বিক্ষোভ

রাঙামাটি প্রতিনিধি  »

রাঙামাটি শহরে লাইন বন্ধ না করে ১১ কেভি লাইনবাহী বৈদ্যুতিক পোল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত শ্রমিক মারা গেছেন। শহরের দেবাশীষনগর এলাকায় সংঘঠিত এই ঘটনায় নিহত শ্রমিকের নাম বাপ্পী (২৮)। তিনি শহরের মোল্লা পাড়ার বাসিন্দা এবং চার বছর বয়সী এক সন্তানের জনক।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছে, রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারের মাধ্যমে বাপ্পী ও তার পিতাসহ আরো কয়েকজন শ্রমিক দেবাশীষ নগর এলাকায় বিদ্যুতের খাম্বা সরিয়ে নেওয়ার কাজে যায়।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছে, রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদারের মাধ্যমে বাপ্পী ও তার পিতাসহ আরো কয়েকজন শ্রমিক দেবাশীষ নগর এলাকায় বিদ্যুতের খাম্বা সরিয়ে নেওয়ার কাজে যায়। এ সময় ৩০ ফুট খাম্বার উপরে উঠে ১১ হাজার কেভির তারে হুক মারার সাথে সাথেই বাপ্পীর দুই হাত বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ঝলসে ৩০ ফুট নীচে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সাথে সাথেই তাকে চট্টগ্রাম রেফার্ড করে দেওয়া হয়। সেখানে আইসিইওতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত নয়টার সময় বাপ্পী মারা যায় বলে জানিয়েছে তার পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে বাপ্পীর সাথে কাজ করা অন্যান্য শ্রমিক ও পিডিপি’র সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, উক্ত কাজের তদারকি ও ঘটনাস্থলের দায়িত্বে ছিলেন রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী এরশাদ আলী।

এই ব্যাপারে উপ-সহকারি প্রকৌশলী এরশাদ আলী’র বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্যেই কোনো প্রকার নিয়মনীতির অনুসরন না করেই ব্যক্তিগতভাবে মৌখিক নির্দেশনায় এই কাজটি করাচ্ছিলেন সংশ্লিষ্ট্য কর্তৃপক্ষ।

একজন কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানিয়েছেন, এই ধরনের পোল সরাতে হলে সংশ্লিষ্ট্য এলাকার বিদ্যুৎ বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী, নিজস্ব লাইনম্যান, ফোরম্যানের উপস্থিতির মাধ্যমে কাজটি করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এই কাজের ক্ষেত্রে সেটি অনুসরণ করা হয়নি।

রাঙামাটি বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানিয়েছেন, মূলত শার্টডাউন না করে কাজটি করতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই কাজটির কোনো ওয়ার্ক অর্ডার ছিলো না। তবে অফিসের উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশনানুসারে কাজটি করানো হচ্ছিলো।

তিনি বলেন, দূর্ঘটনার শিকার ব্যক্তির জন্য আমাদের পক্ষ থেকে যেটুকু সহযোগিতা করার করবো।

এদিকে এই ঘটনায় শুক্রবার রাতেই স্থানীয় শতাধিক এলাকাবাসী বিদুৎ অফিস ঘেরাও করে করে বিক্ষোভ করে। এসময় নিহত বাপ্পীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগও করেন বিক্ষুব্ধরা। তারা বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারি প্রকৌশলী এরশাদ আলী তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত হতোনা।

এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিহত বাপ্পীর পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের স্বজনরা। সর্বশেষ রাত সাড়ে ১০ টার সময়েও বিদ্যুত ঘেরাও করে রাখতে দেখা গেছে বিক্ষুব্ধদের।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন