২২ মার্চ ২০২৬

রাঙামাটিতে হরতালের মুখে ভূমি কমিশনের বৈঠক বাতিল

রাঙামাটি প্রতিনিধি »

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের হরতালের কারণে ভূমি কমিশনের নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোরুল হক স্বাক্ষরিত (পাচভূবিনিক/খাগড়া/২০২২-৪৯) স্মারক নম্বর পত্রে মাধ্যমে বৈঠক বাতিলের ঘোষণার বিষয়টি জানা যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি ক্যালেক্টর (এনডিসি) হাসান মোহাম্মদ শোয়াইব।

বুধবার সকাল ১০টায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে এই সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এর আগে রাঙামাটি শহরে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক ‘প্রতিহত’ করতে ৩২ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে টানা ৩২ ঘণ্টার এ হরতাল চলছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতৃবৃন্দরা সন্ধ্যায় কর্মসূচির ব্যাপারে তাদের মতামত জানাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানিয়েছে।

এতে সকালে প্রেসক্লাব মোড়, বনরুপা, তবলছড়িসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং ও টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করেছে সংগঠনটির কর্মীরা।

কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শহরের মোড়ে মোড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। হরতালের কারণে সকাল থেকে কোন রুটে লঞ্চ ও গাড়ি ছাড়েনি।

সংগঠনটির দাবিসমূহ হলো— পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে জনসংখ্যা অনুপাতে সকল জাতি গোষ্ঠী থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিশ্চিত করতে হবে; পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরুর পূর্বে, ভূমির বর্তমান অবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভূমি জরিপ সম্পন্ন করতে হবে; জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ভূমির উপর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ভূমি কমিশন সংশোধনী আইন ২০১৬ এর ধারা সমূহ বাতিল করতে হবে; পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি ব্যবস্থাপনা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রবর্তন করতে হবে এবং সমতলের ন্যায় জেলা প্রশাসকগণকে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির অধিকার দিতে হবে; কমিশন কর্তৃক ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির কারনে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হলে তাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারী খাস জমিতে পূনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে; পার্বত্য চট্টগ্রামে তথাকথিত রীতি, প্রথা ও পদ্ধতির ৬ পরিবর্তে দেশে বিদ্যমান ভূমি আইন অনুসারে ভূমি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে; বাংলাদেশ সরকারের আদেশ অনুযায়ী জেলা প্রশাসক কর্তৃক বন্দোবস্তীকৃত অথবা কবুলিয়ত প্রাপ্ত মালিকানা থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ