১৮ মার্চ ২০২৬

রাঙ্গামাটি লেকে ফলের পসরায় নৌকা

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

আকাবাঁকা পাহাড়ী পথ বেয়ে জনসমাগম ঘটেছে রাঙ্গামাটি লেকের ধারে। উৎসুক পর্যটকের ভিড়ের মাঝে রাঙ্গামাটি  লেকে থাকা ঝুলন্ত সেতুর উপর থেকেই দেখা যায় ভাসমান একটি ফলের পসরা নিয়ে নৌকা। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনগুলোতে যখন পর্যটকের চাপ থাকে তখনই রমরমা ব্যবসা জমে উঠে ভাসমান ফল ব্যবসায়ী মাঈনুদ্দীনের। রাঙ্গামাটি পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে তা দিনে দিনেই বিক্রি করা হয়। এই ফল যেন মধুতে ভরে রয়েছে শুধু তরতাজা থাকার কারণে।

রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য একধাপ এগিয়ে নিয়েছে সুদৃশ্য লেক। বিশালকায় প্রকৃতির সৃষ্টি এ লেক যেন রাঙ্গামাটির পর্যটন এলাকা শুরু করে শুভলং, কাট্টলী বাজার, লংগদু, মারিশ্যা, মাইনিসহ দূর দূরান্তে চলে গেছে। যার শেষ খোদ লেকে বিরাজমান সাম্পান মাঝিরাও জানে না। লেকের শুরু আর শেষ নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও পর্যটকদের কমতি নেই পার্বত্যাঞ্চল এ অঞ্চলকে ঘিরে।

নেই কোন ফরমালিন, নেই কোন কৃত্রিমতা। প্রকৃতির আদরে গড়া গাছ থেকেই এসব ফল সরাসরি চলে যাচ্ছে পর্যটক তথা ক্রেতাদের কাছে। রাঙ্গামাটি লেকে নৌকায় পাড়ি জমিয়ে পর্যটকরা লেকের দু’ধারে থাকা পাহাড়ের পাদদেশে ও বনাঞ্চলে এসব ফলের গাছ প্রত্যক্ষ করেন ঠিকই, কিন্তু হাতে নাগালে পান না এসব ফল। পর্যটন মওসুম এখন। তাই পাহাড় আর লেককে ঘিরে পর্যটকদের চাপ অনেক বেশি। কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি শহরে এখন পর্যটকের ঢল। এই ক্ষণে চারদিকে এখন পাকা ফলের মৌ মৌ গন্ধ। তবে শহুরে থাকারা ফরমালিনের কারণে পাকা ফল খাওয়া থেকে অনেকেই বিরত থাকেন। কিন্তু এরপরও ফলের ব্যবসা যেমন  বন্ধ নেই, ক্রেতারও অভাব নেই বাজারে। তবে তাজা ফলের অভাব রয়েছে সর্বত্র।

পেঁপেঁ, আনারস, কলা, পেয়ারা, অল্প স্বল্প পাহাড়ী কাঁঠালও রয়েছে মাঈনুদ্দিনের নৌকায়। লেকের পাশেই পর্যটকদের অবস্থান নির্ভর করে ইঞ্জিন বোটে ফল বোঝাই করে নিয়ে আসেন মাঈনুদ্দীন। মাঈনুদ্দীন কাঠাল, কলা, আনারস, পেপে ছাড়াও বিভিন্ন পাহাড়ী ফলও সংগ্রহে রাখেন তার নৌকায়। বিশেষ করে রাঙ্গামাটির আনারস, কলা আর পাহাড়ী কাঠাল শুধু চট্টগ্রামেই নয়, সারাদেশেই এর সুনাম রয়েছে।

এ অঞ্চল থেকে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ফলের চালান গেলেও গাড়িতে বোঝাই থেকে শুরু করে নামানো পর্যন্ত ফলের যাচ্ছেতাই সংগ্রহ বা ব্যবসা চলে। কিন্তু সরাসরি ফল খাওয়ার যে আনন্দ ও স্বাদ মেটাতে হলে রাঙ্গামাটির লেকের ধারে থাকা এ নৌকাটির কথা সবাইকেই মনে রাখতে হবে। খুবই সস্তায় বাজারে যেখানে একটি আনারসের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা সেই আনারস মাঈনুদ্দীনের কাছে মাত্র ১০ টাকা। আধপাকা কলা নয়, একেবারে হলুদ বাংলা আর চাপাকলা যেন রাঙিয়ে ঝুলানো হয়েছে নৌকায়। ক্রেতারা যে যার ইচ্ছে মত ফল কিনে নৌকার ধারেই সাবাড় করে দিচ্ছে। আনারসের খোসা ছাড়িয়ে মাঈনুদ্দীন ক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছে, এ যেন পরিবারের সদস্যদের মত অন্য ধরনের আপ্যায়ন। ফলের দাম নিলেও ব্যবসায়ীর ভাল ব্যবহারে ক্রেতারা পঞ্চমুখ। মাঈনুদ্দীনের বাড়ি রাঙ্গামাটির তবলছড়ি ইউনিয়নে।

পারিবারিক অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মাঈনুদ্দীন বলেন, ১ লাখ টাকায় সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প থেকে এ নৌকাটি কিনেছেন। দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছরের ব্যবসা যেন চলে আসছে লেকে ভাসতে ভাসতে। মাঈন্দ্দুীন তিন সন্তানের জনক। এরমধ্যে দু’জন যমজ। এরা বাবার সাথে নৌকায়  সময় কাটায়। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা নয়, প্রত্যেক মওসুমেই যখন যে ফলের কদর থাকে সেই ফলের ব্যবসা চলে মাঈনুদ্দীনের এই নৌকায়।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন