রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি »
আজ পবিত্র শবে বরাত। তাই রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ককে উপেক্ষা করে সকাল হতেই জমে উঠেছে কেনাকাটার ধুম। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ নিয়মিত পুলিশি টহল জোরদার অব্যাহত থাকলেও তা মানা হচ্ছে না রাঙ্গুনিয়ার হাট-বাজারগুলোতে।
কোয়ারেন্টিন না মেনে অকারণেই হাট-বাজারগুলোতে যত্রতত্র গ্রামগঞ্জের মানুষের সাথে উৎসবমুখর পরিবেশে মেলামেশা করছে শহর থেকে আসা লোকজন। ফলে গ্রামাঞ্চলের মানুষের মাঝে করোনা সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলার একাধিক হাট-বাজারে গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।
জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে শহর অঞ্জলে অঘোষিত লকডাউন ও টানা সাধারণ ছুটি থাকায় সারাদেশ থেকে অনেকেই বাড়িতে চলে আসেন। আর আজ পবিত্র শবে বরাতকে উপলক্ষ্য করে সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কেনাকাটায় ভিড় জমায় ফলে উপজেলার গ্রাম্য হাট-বাজারগুলোতে যেন ঈদের আমেজ শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সরেজমিনে উপজেলার রোয়াজারহাট, রাজারহাট, ধামাইরহাট, রানীরহাট, চন্দঘোনা দোভাষী বাজার, শান্তিরহাটে গিয়ে দেখা যায় মানুষের উপচে পরা ভিড়। সামাজিক দূরত্ব না মেনে এবং অনেকেই মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার না করে কেনাকাটা করছেন। এতে হাট-বাজারগুলোতে লক্ষ্য করা গেছে ঈদের আমেজ। কেউ কেউ সেনা, পুলিশের গাড়ী আসার খবর পেয়ে দোকানের শাটার নামিয়ে বাহির থেকে তালা ঝুলিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ দোকানের অর্ধেক শাটার খোলা রেখে কৌশলে ব্যবসা চালাচ্ছেন। একই চিত্র উপজেলার অন্যান্য হাট বাজার গুলোতেও।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছি। পুলিশ সব সময় বিভিন্ন এলাকার বাজারগুলোতে টহল দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ যাওয়ার খবর পেয়ে লোকজন সটকে পড়েন। তারপরও জনসমাগমের খবর পাওয়া মাত্রই আমরা দ্রুত ছুটে যাচ্ছি। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারগুলো মনিটরিং করছি। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। অভিযানে গেলে বাজার খুব কম সময়েই খালি হয়ে যায়। কিন্তু অভিযান শেষ করে ফেরার পরেই হাট- বাজারগুলোতে ফের মানুষ ভিড় জমান।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ












