১৪ মার্চ ২০২৬

রাস্তায় ঝগড়া, একে অন্যকে ‘ছেলেধরা’ বলে গণধোলাই খেলেন স্বামী-স্ত্রী

বাংলাধারা ডেস্ক »

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে রাগের বশে একজন অন্যজনকে ‘ছেলেধরা’ বলে চিকিৎকার করার পর স্থানীয় জনতার হাতে গণধোলাই খেলেন স্বামী-স্ত্রী উভয়ই।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নয়নপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গণধোলাই দেওয়ার পর স্বামী পালিয়ে গেলেও স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রী রিকশায় ছিলেন। সাথে স্বামীর এক বন্ধুও। তিনজনকে নিয়ে যখন রিকশাটি চলছিল তখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে লাগে ঝগড়া। এক পর্যায়ে তা তুমুল আকার ধারণ করে।

স্ত্রী অভিযোগ করেন, তিনি শুনেছেন তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করেছেন।

স্বামী অস্বীকার করছিলেন সেটি। এ নিয়েই বাঁধে বিপত্তি। একপর্যায়ে চরমপর্যায়ে চলে যায় সেই ঝগড়া। এর মধ্যেই রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে স্বামীকে ইঙ্গিত করে ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করে ওঠেন স্ত্রী।

তখন স্বামীও স্ত্রীকে ইঙ্গিত করে ‘ছেলেধরা-ছেলেধরা’ চিৎকার করতে থাকেন। পরিবারের ওই বন্ধুটি দুজনকে সামলাতে চাইলেও পারছিলেন না। ততক্ষণে আশেপাশের মানুষজন জড়ো হয়ে যায়। একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা করে পেটাতে শুরু করেন তারা। গণধোলাইয়ের শিকার হন ওই পরিবারিক বন্ধুও। বিক্ষুব্ধ জনতার গলধোলাই খেয়ে স্বামী ও বন্ধুটি পালিয়ে গেলেও বাঁচতে পারেননি স্ত্রী।

জানা গেছে, ওই নারীর নাম তানিয়া। তিনি স্থানীয় বেড়াইদেরচালা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা এবিএম তাজউদ্দিনের মেয়ে।

গণপিটুনি খাওয়ার সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, ‘তার স্বামী আরেক বিয়ে করেছেন শুনে ঝগড়া বাধে তাদের মধ্যে। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে,ছেলেধরা নন। ’

কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতা তার কথা কানে তোলেনি। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তানিয়াকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বার বার একই কথা বলেছেন।

শ্রীপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় বেড়াইদেরচালা গ্ৰামের মুক্তিযোদ্ধা এবিএম তাজউদ্দিনের মেয়ে তানিয়া। তানিয়ার স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটির এক সময় এলাকার স্থানীয়রা এসে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে দু‘জনকে পিটিয়ে আহত করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তানিয়াকে উদ্ধার করে।

শ্রীপুর থানার এসআই আমিনুল হক জানান, এ ঘটনার সন্দেহে তানিয়াকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/এসবি/আরইউ

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ