৩১ মার্চ ২০২৬

রেনু হত্যা: যেভাবে গণপিটুনিতে যোগ দেয় হৃদয়

বাংলাধারা ডেস্ক »

রাজধানীর বাড্ডায় ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে দুই সন্তানের জননী তাছলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অন্যতম হোতা হৃদয় প্রাথমিকভাবে দায় স্বীকার করেছে। ঘটনার দিন স্কুল গেটে থাকা এক নারীর প্ররোচণায় গণপিটুনিতে অংশ নেয় সে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৬ জনের নাম জানিয়েছে সে।

বুধবার (২৪ জুলাই) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ভূলতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয়কে গ্রেফতার করে ডিবি পূর্ব বিভাগ।

হৃদয়কে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে বাতেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় জানিয়েছে ঘটনার দিন রেনু স্কুলে প্রবেশ করার সময় গেটে থাকা অন্য এক নারী অভিভাবক তার পরিচয় এবং বাসার ঠিকানা জানতে চান। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেনু ওই নারীকে তার নাম-ঠিকানা জানান। সে সময় ওই নারী রেনুকে দেখিয়ে ছেলেধরা বলে চিৎকার করেন।

এরমধ্যে রেনুকে স্কুলের একটি কক্ষে বন্দি করা হয়। ছেলেধরার খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যেহেতু কাছে বাজার তাই মুহূর্তে হাজারো মানুষ ভিড় জমায়। এদের মধ্যে উৎসুক কিছু জনতা স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করে রেনুকে বের করে পিটুনি দেয়। হৃদয়ও তাদের সঙ্গে অংশ নেয়।

হৃদয় স্কুলের পাশেই একটি দোকানে সবজি বিক্রি করতো। সবজি বিক্রি শেষে সে স্কুলের কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। রেনুকে স্কুলে প্রবেশ করতে দেখেছিল সে।

আব্দুল বাতেন বলেন, ঘটনার পর সে (হৃদয়) যখন বুঝতে পারলো পুলিশ তাকে গ্রেফতার করবে তখন নারায়ণগঞ্জে পালিয়ে যায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেনু এবং ওই নারী পূর্ব পরিচিত কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। ঘটনাটি পরিকল্পিত কিনা তা ওই নারীকে জিজ্ঞাবাদের পর বলা যাবে। কারণ রেনুকে দেখে তিনিই প্রথম ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করেছিলেন।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর

আরও পড়ুন