১৭ মার্চ ২০২৬

রেলের স্কুলে শিক্ষার মান নাজুক

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

রেলওয়ের পরিচালিত স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ। এরমধ্যে শিক্ষা কার্যক্রমসহ নিয়মানুবর্তিতায়ও ঘাটতি রয়েছে। কারণ, শিক্ষকরা স্ব স্ব শ্রেণী কার্যক্রমের উপস্থিত হতে যেমন বিলম্ব করেন, তেমনি শ্রেণি কার্যক্রম শেষ না করেই বেরিয়ে আসার ঘটনাও বিরল নয়। এছাড়াও শ্রেণীকক্ষেই শিক্ষক ও ছাত্রদের মোবাইলের ব্যবহার এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। ৫টি স্কুলে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী।

এদিকে, শিক্ষকদের নিয়োগ কলঙ্কিত হওয়ায় মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান ও স্কুলের সুনাম অক্ষুন্ন রাখা যাচ্ছে না। ৯০ দশকের পর থেকে গত ত্রিশ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের স্কুলগুলো মেধাক্রম অনুসারে বোর্ড রেজাল্ট তালিকায় স্থান রাখতে পারছে না। এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে নিয়োগকৃত শিক্ষক শিক্ষিকারা ক্লাসে পাঠদান না করে স্কুল শুরুর আগে এবং পরে স্কুল ক্যাম্পাসেই কোচিং সেন্টার খুলে বসেছেন। আর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হোম টাস্ক আদায়ের রেওয়াজটাও বিলীন হয়ে গেছে।

জানা গেছে, রেলের পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক পরিচালিত ৫টি স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলের মধ্যে রয়েছে, পাহাড়তলীস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, বন্দর থানাধীন সল্টগোলা রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, আখাউড়াস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, কিশোরগঞ্জের ভৈরবস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়।

অভিযোগ রয়েছে, অস্থায়ী শিক্ষকের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কিছুদিনের জন্য পাঠদানে সংযুক্ত হলেও কিছুুদিন পর স্বল্প ও অস্থায়ী বেতনে থাকতে নারাজ। বিশেষ করে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, একাউন্টিং, ফিন্যান্স ও ইংরেজী বিষয়ের শিক্ষক ঘাটতি নিয়ে ওয়েলফেয়ার বিভাগের কোন মাথা ব্যাথা নেই। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এসব বিষয়ে চূড়ান্ত পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আরও অভিযোগ, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অবৈধ উপায়ে নিয়োগ পাওয়ায় শ্রেণি কার্যক্রমে মনোনিবেশ করতে পারছেন না নিজেদের অজ্ঞতার কারণে। কারণ, নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাবীদের বাদ দিয়ে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে অনভিজ্ঞ ও কম মেধাবীদের নিয়োগ দেয়ায় রেলওয়ের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না।

আরো অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত স্কুলগুলোতে পড়ালেখার মান খুবই খারাপ। ৯০ দশকের পর থেকে স্কুলগুলোকে ক্রমশ পড়ালেখার মান নিম্নমুখী হওয়ায় খোদ রেল কর্মকর্তা কর্মচারীর পোষ্যরা পড়তে নারাজ। এমনকি মেধাবীদের ও একই পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে একজনকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দিয়েও শিক্ষার্থী পাচ্ছে না মেধাবী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথ, একাউন্টিং, ফিন্যান্স ও ইংরেজী শিক্ষক অনেকটা নেই বললেই চলে। কিছু কিছু স্কুলে অস্থায়ী বা অতিথি শিক্ষক দিয়ে কোনমতে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ওয়েলফেয়ার কর্মকর্তা।
উল্ল্যেখ, রেলের পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিচালিত ৫টি স্কুলে ৩৪টি শিক্ষক ও কর্মচারির পদ বিলুপ্ত করে নতুন করে ৩৫টি পদ সৃজনের জন্য প্রস্তাব করা হলেও ২৩টি পদ ক্রমান্বয়ে কার্যকর করা হচ্ছে। ৫টি স্কুলে বিদ্যমান ১৫৫টি পদের মধ্যে ১৪৪টি পদ কার্যকর হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পাহাড়তলীস্থ বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক বাংলাধারাকে বলেন, মেধাবী ও দায়িত্বশীল শিক্ষকের অভাবে পড়ালেখার মান নিম্নগামী। আধুনিক শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষে যেমন মোবাইলের ব্যবহার করছেন তেমনি শিক্ষার্থীরা ব্যাগের ভেতরে রেখেই মোবাইল ব্যবহার করছে। শেণীকক্ষে মনোনিবেশ করতে না পারলে পড়ালেখার মান নিশ্চিত করা যাবে না।

আরও পড়ুন