৭ মার্চ ২০২৬

রেশনের অংশ বাঁচিয়ে প্রত্যন্তাঞ্চলে অসহায়দের ঘরে ঘরে সেনাবাহিনী

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

বিশ্ব মহামারী করোনার প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সরকারি ঘোষণায় চলছে সাধারণ ছুটি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতে এবং নির্দিষ্ট দোকানপাট ছাড়া সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনায় লকডাউন চলছে কক্সবাজার জেলাতেও। এ পরিস্থিতিতে জনগণকে সচেতন রাখতে পর্যটন নগরী কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের চারটি উপজেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতায় সেনাবাহিনীর রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশন ‘সকলের সুস্থতাই আমাদের কাম্য’ স্লোগানে তাদের সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

মানুষকে করোনা বিষয়ে সচেতন করা, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, জীবাণুনাশক কার্যক্রম পরিচালনা ও লকডাউন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের কাছে নিজেদের রেশন বাঁচিয়ে খাদ্য সহায়তাও পৌঁছে দিচ্ছে ১০ পদাতিক ডিভিশনের সেনা সদস্যরা। সংকটময় পরিস্থিতি কাটাতে স্বত:স্ফূর্ত ভাবে অতি দরিদ্র মানুষের পাশে থাকার সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছে তারা। চলছে মাক্স ও সেনিটাইজার বিতরণ, সেনাবাহিনীর গাড়ি দিয়ে রাস্তায় ও কক্সবাজার জেলায় জরুরী প্রয়োজনে প্রবেশকৃত গাড়িসমূহে জীবাণুনাশক ছিটানো, জনসচেতনতায় মাইকিং, ফুল হাতে দিয়ে পথচারীদের ঘরে ফেরানোসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে সেনা সদস্যরা।

এরই ধারাবাহিকতায় রোববারও জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কর্মহীন অতিদরিদ্র মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে রামু সেনানিবাসের সেনাসদস্যরা। তারা নিজেদের রেশনের চাল, ডাল, আটা, আলু, পিঁয়াজ, তেল, লবণসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বাঁঁচিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অভাবগ্রস্ত, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে।

এসময় বৈশ্বিক আতংক করোনা প্রতিরোধে সম্যক জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনা প্রয়োজনে কাউকে ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ করেন সেনা জওয়ানরা। পাশাপাশি তারা বেশি বেশি হাত ধোয়া, মাক্স ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে অনুরোধ করেন।

ত্রাণের মতোই সেনাবাহিনীর মেডিকেল টিম কর্তৃক রামু ও পেকুয়া উপজেলায় অসহায় মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্যালাইন বিতরণের পাশাপাশি ছোট ছোট বাচ্চাদের চিপস ও চকলেট বিতরণও করেন সেনাসদস্যরা।

এদিকে, ৮ এপ্রিল পর্যটন নগরী কক্সবাজার লকডাউন ঘোষণার পর থেকে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি চেকপোস্ট স্থাপন করেছে সেনাবাহিনী। জেলা শহর ছাড়াও আশেপাশের উপজেলায় টহল কার্যক্রম রয়েছে চোখে পড়ার মতো। টহলরত সেনা সদস্যরা মানুষের সমাগম দেখলেই গাড়ি থামিয়ে তাদের সাথে কথা বলছেন এবং দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে ঘরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন। সেনাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারনে জরুরি প্রয়োজনে যারাই বাইরে বের হচ্ছেন তাদের প্রায় সবাইকে সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

অপরদিকে, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় ৩৪টি ক্যাম্পে অবস্থান করছেন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত ১১ লাখ মিয়ানমার রোহিঙ্গা নাগরিক। ৩৪ টি ক্যাম্পে করোনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করছে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা। সেনা ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে বার্মিজ ও ইংরেজি ভাষায় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং ক্যাম্পসমূহে দিনব্যাপী বার্মিজ এবং ইংরেজি ভাষায় সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে ক্যাম্প এলাকায় সেনা চেকপোষ্ট ও যৌথ টহল কার্যক্রম। সীমিত করা হয়েছে বহিরাগতদের চলাচলও।

রামু সেনানিবাসের গণমাধ্যম সমন্বয়ক মেজর তানজিল জানান, করোনা মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ পালনে সচেষ্ট রয়েছে সেনা সদস্যরা। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবতার সেবায় যুদ্ধকালীন সময়ের মতই প্রস্তুতি নিয়ে গত দেড় মাস ধরে কাজ করা হচ্ছে। দেশের স্বার্থে সকল প্রকার কর্মকান্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন