৩০ মার্চ ২০২৬

রোহিঙ্গাদের জঙ্গী তৎপরতায় জড়ানোর বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে : নওফেল

কক্সবাজার প্রতিনিধি »

এলজিআরডি মন্ত্রীর পর এবার রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সজাগ থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তিনি বলেছেন, মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক কারণে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। মানবিক আশ্রয় হলেও রোহিঙ্গাদের কারণে উখিয়া-টেকনাফ তথা কক্সবাজারে জনগণ আজ সংকটাপন্ন অবস্থায়। এ সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে বর্ণচোরা অপরাধীচক্র। তারা (অপরাধী গোষ্ঠী ) যেন আশ্রিত রোহিঙ্গাকে জঙ্গী তৎপরতা ও অপরাধমূলক কোন কাজে জড়াতে না পারে সে বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনতাকে সজাগ থাকতে হবে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন নওফেল।

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, অতীতের সব সরকার সাম্প্রদায়িকতা লালন করেছেন। পাঠ্যপুস্তকেও তার প্রমাণ ছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকার পাঠ্যপুস্তককেও সাম্প্রদায়িকতা মুছে দিয়েছে। এ সরকারের সময়ে সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করে।  

নওফেল আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে অবিরাম সংগ্রাম চালাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কক্সবাজারসহ দেশের আনাচে-কানাচে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ চলছে। মুজিব বর্ষে এসব উন্নয়ন প্রকল্পে পরিপূর্ণতা আনায়নের প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু একটি শক্তি তার অর্জনকে নস্যাত করতে ততপর। তাই শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সংখ্যালঘু ধোয়া তুলে কাউকে ভিকটিম বানিয়ে যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করতে না পারে সে বিষয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সজাগ থাকতে হবে।  

কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি শহীদ দৌলত ময়দানে ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট পীযুষ কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন ও কাউন্সিল উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও রাঙ্গামাটি আসনের সাবেক সাংসদ উষাতন তালুকদার।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানাদাশ গুপ্ত বলেন, ১৯৭১ সালে কে কোন ধর্মের তা বিবেচনায় না নিয়ে শুধু বাঙ্গালী হয়ে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলাম। আশা ছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের। আমরা সংখ্যালুঘ হিসেবে নয়, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বাস করতে চাই। অত্যাসন্ন মুজিব বর্ষে-ই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ঘোষনা পাব বলে আশা রাখছি।

যুদ্ধপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানাদাশ গুপ্ত আরো বলেন, প্রশাসনের কিছু কিছু সেক্টরে এখনো পাকিস্থান প্রেমী রয়েছে। তারা আবার সরকারি দলের (আওয়ামীলীগের) নেতাদের অনুকম্পা পায়। যারা অনুকম্পাদেন তাদের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মনে রাখা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, সব কিছুতে শেখ হাসিনা নজর রাখবেন এমনটি হতে পারে না। বঙ্গবন্ধু প্রেমী হলে দেশ বিরোধীদের ব্যাপারে সজাগ থেকে তাদের প্রতিহত করতে হবে। অনেক সংখ্যালুঘু সম্প্রদায় হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে আহবান জানিয়ে রানা দাশ গুপ্ত বলেন, চকরিয়ার শিক্ষক নারায়ন হত্যার রহস্য ও তার পরিবার দেশান্তরি হবার কারণ উদঘাটন করতে তিনি প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, আওয়ামীলীগের অঙ্গ-সহযোগি সংগঠনের মূল দায়িত্বে সংখ্যালুঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের বসিয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদের সম্মানিত করেছেন। 

ঐক্য পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক প্রিয়তোষ শর্মা চন্দন ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রণজিত দাশের যৌথ সঞ্চালনা ও কার‌্যকরি সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপংকর বড়ুয়ার স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমল, আশেক উল্লাহ রফিক, জাফর আলম, কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান,  জাসদ সভাপতি নঈমুল হক চৌধুরী টুটুল, সাবেক সাংসদ এথিন রাখাইন, ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উত্তম কুমার চক্রবর্তী, মহিলা ঐক্য পরিষদের সভাপতি মধুমিতা বড়ুয়া, ‘এবার রোহিঙ্গাদের অপরাধ বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান নওফেল’র’ কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম প্রমূখ।

বাংলাধারা/এফএস/টিএম/এএ

আরও পড়ুন