৩১ মার্চ ২০২৬

বিএনপি চায় না রোহিঙ্গারা ফিরে যাক : তথ্যমন্ত্রী

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা যেভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন তাদের কথাবার্তায় মনে হয় রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাক সেটা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তারা চায়না রোহিঙ্গারা দেশে ফিরে যাক। রোহিঙ্গাদের নিয়ে রাজনীতি করায় বিএনপির মূল উদ্দেশ্য।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ যে পথে হাঁটছে সেটিই সঠিক পথ। কোন যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা যাবে না। বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করছে। 

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) সকালে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) ও সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার ও সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. মাহাবুবর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। 

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা শুধু ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমানকে নয়, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল। ১৯৭১ সালে দেশী-বিদেশী এবং আর্ন্তজাতিক যেসব শক্তি বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় চায়নি তারাই মূলত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে হত্যা করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। সেটার প্রমাণ হলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর প্রথমে জাতীয় পতাকা পরির্তনের উদ্যোগ নেয়া হয়, পরবর্তীতে প্রবলভাবে আভ্যন্তরীণ বিরোধীতার কারণে সেটা করা সম্ভব হয়নি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো ইসলামী প্রজাতন্ত্রী ঘোষণা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা পাকিস্তানের সাথে থাকতে চাইনি বিধায় আমরা বাঙালিরা একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র রচনার লক্ষ্যেই সবার রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয় হয়েছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তা পারেনি। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন আর সেই ষড়যন্ত্রকারীরাই মুছে গেছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বাংলাদেশ আজ স্বপ্নপূরণের পথে। ২০২১ সাল নাগাদ পরিপূর্ণ মধ্যম আয়ের দেশ, ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশে রূপান্তরিত হতে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। আমরা যদি শেখ হাসিনাকে সুযোগ দিই, বাংলাদেশ স্বপ্নের ঠিকানায় পরিণত হবে।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফেরার সময় ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে বলেছিলেন মিসেস গান্ধী আপনার সৈন্য কখন ফেরত নেবেন। বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী রাজনৈতিক চিন্তার কারণে তখন তিন মাসের মাথায় ভারতীয় সৈন্য ফেরত গিয়েছিল। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈন্যরা এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আছে। 

পুলিশের প্রশংসা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় পুলিশ বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে, আত্মত্যাগ রয়েছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, পেট্রোল বোমাবাজদের প্রতিহত করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে পুলিশ বাহিনী। স্বাধীনতা-সংগ্রামে, দেশ গঠনের ক্ষেত্রে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতি বিরাজমান রাখার ক্ষেত্রে এবং দেশের ক্রান্তিকালে পুলিশ বাহিনী যেভাবে দায়িত্বপালন করেছে এবং করছে। প্রয়োজনে পুলিশ সদস্যরা মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছে- এজন্য পুলিশ বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। 

সিএমপি’র সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাঁচলাইশ জোন) দেবদূত মজুমদারের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপ-কমিশনার (সদর) শ্যামল কুমার নাথ। বক্তব্য দেন সিএমপির উপ-কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক, সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবলী সাদিক, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান, পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইনুর রহমান।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর


আরও পড়ুন