বাংলাধারা ডেস্ক »
মায়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা চলবে বলে জানিয়েছে নেদারল্যান্ডের হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)। পাশাপাশি বিচার স্থগিতে মায়ানমারের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছে আইসিজে’র বিচারকদের বেঞ্চ।
বৃহস্পতিবার (বাংলাদেশ সময়) বিকেলে এক অন্তবর্তী আদেশে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আইসিজেতে মায়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যার মামলা দায়ের করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। এই মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত করতে দেশটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক অন্তর্বর্তী আদেশে এসব রায় দেন বিচারক।
হেগের স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) রায় পড়া শুরু করেন আদালতের প্রেসিডেন্ট আব্দুল কাওয়াই আহমেদ ইউসুফ।
আদেশে বিচারক বলেছেন, মায়ানমার রোহিঙ্গা গণহত্যার দায় এড়াতে পারে না।মামলায় দেশটি যথাযথ সহযোগিতা করেনি বলেও জানায় আদালত। এই মামলা নিয়ে মায়ানমার যে আপত্তি করেছে সেটি গহণযোগ্য নয়।
আদেশে আরও বলা হয়, মায়ানমারের সেনা বাহিনীর দোষী সদস্যদেরকেও বিচারের আওতায় আনতে হবে। আগামি চার মাসের মধ্যে অন্তবর্তী আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি আদালতকে জানাতে হবে। রোহিঙ্গাদেরকে সুরক্ষা দেয়ার নির্দেশও দেন বিচারক।
২০১৭ সালের আগস্টে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ ও নির্যাতন চালায় দেশটির সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধরা। জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ওই ঘটনাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া।
গত বছরের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মায়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার করা ওই মামলার শুনানি হয়।সেখানে মায়নমারের নেত্রী অং সান সু চি নিজের দেশ ও সেনাবাহিনীর পক্ষে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, তারা রোহিঙ্গাদের ওপর কোনো নির্যাতন চালায়নি। রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার মুখেই নাকি রোহিঙ্গারা দেশ ছেড়ে বাংলাদেশ আশ্রয় নিয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ব জুড়ে সমালোচিত হয়েছেন এক সময় শান্তিতে নোবেল পাওয়া সুচি।
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












