মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »
লকডাউন তুলে দেয়া হয়েছে। নেই কোন যৌথ অভিযান। যত্রতত্র অবস্থানে কোন বাধা নেই। আবার যাত্রীদের লাগাম ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পরিবহনে ইচ্ছামত যাত্রী উঠতে কোন বাধা নেই। কিন্তু দিন শেষে হিসাব কষতে হবে করোনা আক্রান্তের মাত্রা কতটুকু বেড়েছে। গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বিধি নিষেধের পরিসমাপ্তি টানা ১৯ দিন পর ঘটেছে ১০ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে। কিন্তু এর আগে থেকেই সরকারী ঘোষণায় মোটামুটি নগরী সচল হয়ে গেছে।
বুধবার (১১ আগস্ট) সকাল সাতটায় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের সামনে দেখা গেছে বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা নিয়ে প্রায় দেড়শ নারী-পুরুষ কোভিড ভেকসিন দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। মূলত এমন লাইন থেকেই করোনা ভাইরাসে সংক্রমিতের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব কোনটাই রক্ষা করা যাচ্ছে না আগতদের ভীড়ে। মাস্ক পরে আর কতোইবা সংক্রমণ রক্ষা করা যাবে এমন প্রশ্ন আগতদের।
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দফতর ঘুরে দেখা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে এগারটা পর্যন্ত দেখা গেছে অফিস প্রায় ফাঁকা। কয়েকজন সরবরাহকারীও দীর্ঘ প্রায় দু’মাস পর এসেছেন ব্যবসা বাণিজ্যের খোঁজ খবর নিতে। কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুপস্থিতির কারণে অনেকটা কষ্টসাধ্য হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক রুহুল কাদের আজাদ বাংলাধারাকে বলেন, লকডাউন হলেও গত ১ আগস্ট থেকে তিনি প্রায় প্রতিদিনই এসেছেন। কর্মকর্তা কর্মচারীরাও জরুরী প্রয়োজনে এসেছে। দেশের সর্ববৃহৎ পরিবহন সেক্টর হিসেবে আমাদেরকে লকডাউন হলেও আসতে হয়।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে স্পেয়ার্স এন্ড এক্সেসোরিজ সাপ্লাইয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস হুদা চৌধুরী বাংলাধারাকে বলেন, অফিসে বসার কোন স্থান নেই। সমিতি অফিসটাও তালা মেরে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। ফলে করোনাকালীন সময়ে সমিতির সদস্যরা জড়ো হলে হাঁসফাঁস অবস্থার সৃষ্টি হয়।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি সড়কের মোড়ে মোড়ে আবারো গাড়ী আর যাত্রীর জটলা শুরু হয়েছে। খালী পাবলিক পরিবহন এলেই কে কার আগে গাড়ীতে উঠবে এমন প্রতিযোগীতাই আবার শুরু হয়েছে। নো মাস্ক নো সার্ভিস এ শব্দাটি আর কেউ ব্যবহার করছে না। পাবলিক বাস, টেম্পু, লেগুনা, টুকটুকি আর সিএনজি টেক্সিতে তিল ধারনের ঠাঁই নেই। যাত্রীতে ঠাঁসা। পরিবহনের ভাড়া আদায় করা হচ্ছে লকডাউনের আগের মতোই।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সিডিউল অনুযায়ী আন্তঃনগর ও এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে। তবে এখন শুধু বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী ও আগামী ২০ আগস্ট মহরমের পর আবারো দিতে পারে লকডাউন।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












