৩১ মার্চ ২০২৬

লটারীতে নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য, কার্ড ছাপিয়ে করেন তদবীর ও উন্নয়ন বাণিজ্য

তারেক মাহমুদ »

নগরীর হালিশহর হাউজিং এস্টেট গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত এক অভিভাবক সদস্য রীতিমত ‘শিক্ষা ও আইসিটি আহবায়ক‘ পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড ছাপিয়ে  বিভিন্ন জায়গায় অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার বাসিন্দান্দের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির লটারীর মাধ্যমে নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য মো: জসিম উদ্দিন এর দুর্ব্যবহারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীগণ অতিষ্ট। রীতিমতো অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন তিনি। তার এই গালাগাল থেকে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ও বাদ পড়ে না। বিদ্যালয়ে এসে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন তদবীর, উন্নয়ন বাণিজ্য ও ধান্ধা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন।

গরীবে নেওয়াজ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বাংলাধারাকে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি সমন্বিত, নিবিড় পরিচর্যা এবং আধুনিক বিজ্ঞান সম্মত ধ্যান ধারণায় পরিচালিত মানসম্মত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আমার চিন্তা ও চেতনায় বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। বিদ্যালয়ের দক্ষ পরিচালনা পরিষদ ও সম্মানিত অভিভাবকদের সু-পরামর্শ গ্রহণ করে অত্র প্রতিষ্ঠানকে চট্টগ্রামের একটি উন্নত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ার প্রত্যয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের অভিভাবক সদস্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এসেছে তা উপরের মহলের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিভাবক সদস্য মো: জসিম উদ্দিন বাংলাধারাকে বলেন, লটারীর মাধ্যমে একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করা হয়। আমি অভিভাবকদের পক্ষে নেতৃত্ব দেই। ভুল-ক্রটি পেলে একজন অভিভাবক সদস্য হিসেবে সেটা নিয়ে মতামত জানানোর অধিকার আমার আছে। তার মানে এই নয় যে আমি অকথ্য ভাষায়, গালাগাল দিয়ে কথা বলব। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

ভুয়া ভিজিটিং কার্ডের ব্যাপারে প্রসঙ্গ তুলতে গেলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেতে হবে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

উল্লেখ্য, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ ১৯৭৭ সালের ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির এই প্রবিধানমালাটি প্রায় ৩২ বছর একই অবস্থায় বহাল ছিল। ২০০৯ সালের ৮ জুন মাধ্যমিক ও উচ্চ মধ্যিমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি সংক্রান্ত নতুন একটি প্রবিধান জারি করা হয়। প্রবিধানটি জারির পর বেশ কয়েকটি ছোটখাটো সংশোধনী আনা হলেও তা যথেষ্ট ছিল না।

২০১২ সালের ২৯ আগস্ট শিক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডসমূহের চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি প্রবিধানমালা ২০০৯ সংশোধন সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ২০১৩ সালের ১ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা প্রবিধানমালা ২০০৯-এর ওপর একটি সংশোধনী আদেশ জারি হয়। জারিকৃত আদেশে ২১টি অনুচ্ছেদ/উপ-অনুচ্ছেদের সংশোধনী না দেওয়ায় পড়তে হচ্ছে নানাবিধ সমস্যায়। ম্যানেজিং কমিটির প্রবিধানমালায় অভিভাবকের যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়েছে শিক্ষার্থীর বাবা অথবা মা হবেন অভিভাবক আবার অভিভাবক সদস্য নির্বাচনে পাঁচজন হবেন নির্বাচিত। তাঁদের মধ্যে একজন থাকবেন মহিলা (যা সংরক্ষিত)।

বাংলাধারা/এফএস/এমআর/টিএম

আরও পড়ুন