বাংলাধারা প্রতিবেদন »
প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব। দিন যত যাচ্ছে নমুনা পরীক্ষার হারও বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না তা নির্ণয়ের জন্য র্যাপিড টেস্টিং অ্যান্টিবডি কিটের অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনাভাইরাস শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই কিট ব্যবহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ কিটের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ কমিটি বৈঠক করে একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে। নীতিমালায় বলা হয়েছে সেরো সার্ভেইল্যান্স এবং কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি ও গবেষণার কাজে এই কিট ব্যবহার হবে। অপব্যবহার রোধে শুধুমাত্র কিটটি ল্যাবরেটরিতে ব্যবহার করা যাবে। কিটের মোড়কে লিখতে হবে, ‘দিস ইজ নট এ ডায়াগনস্টিক কিট, দিস কিট উইলবি ইউজড অনলি ফর ডিটেক্টিং অ্যান্টিবডি, নট ইন অ্যাকিউট স্টেজ’ (এটি নির্ণায়ক কিট নয়, শুধুমাত্র অ্যান্টিবডি শনাক্ত করার কাজে ব্যবহার করা যাবে, রোগ শনাক্ত করার কাজে নয়) । কিটগুলো পয়েন্ট অফ কেয়ারে (কোভিড–১৯ পরীক্ষা কেন্দ্রে) ব্যবহার করা যাবে না। কিটের আইজিজি / আইজিএম এর সেনসিটিভিটি ৯০ ভাগ ও স্পেসিফিসিটি ৯৫ ভাগ হতে হবে।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেন, দেশীয় একটি প্রতিষ্ঠান র্যাপিড টেস্টিং কিট আবিষ্কার করেছে। তাছাড়া ২৫–৩০টি প্রতিষ্ঠান র্যাপিড টেস্টিং কিট আমদানির অনুমতি চেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কি কি শর্ত পূরণ করতে পারলে কিট অনুমোদন দেওয়া যাবে তা ঠিক করা জরুরি হয়ে পড়ে। সে কারণেই বিশেষজ্ঞ কমিটি বৈঠক করে একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করেছ।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, আরটি–পিসিআর পরীক্ষায় ১০০ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হলে, র্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টিং কিটে কমপক্ষে ৯০ জনের পজিটিভ আসার শর্ত দেওয়া রয়েছে।
কমিটির প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন মো. কামাল বলেন, ‘উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১৪ দিনের আগে বিশ্বের কোথাও র্যাপিড টেস্টিং কিটের ফল ভাল আসেনি। সে কারণে বাংলাদেশেও ১৪ দিনের আগে এটি ব্যবহারের পক্ষে নই আমরা।’ সেরো সার্ভেইল্যান্স বলতে বোঝানো হয়েছে, একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগটির বিরুদ্ধে অ্যান্টবডি তৈরি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা।
সূত্র : প্রথম আলো
বাংলাধারা/এফএস/টিএম












