শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে আয়োডিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ এবং গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিন প্রয়োজন। এই খনিজের ঘাটতিতে গলগণ্ডসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। আয়োডিনের অন্যতম পরিচিত উৎস আয়োডিনযুক্ত লবণ হলেও দুধ, ডিম, মাছ ও অন্যান্য খাবার থেকেও শরীর এই পুষ্টি উপাদান পেতে পারে।
দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য রাখলে আয়োডিনের চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন খাবারে আয়োডিনের পরিমাণ নির্ভর করে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎসের ওপর। তাই শুধু কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে পরিমিত ও সুষম খাবার খাওয়ার পাশাপাশি আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
আয়োডিন পাওয়া যায় যেসব খাবারে
১. সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য খাবার
টুনা মাছ, চিংড়ি, সার্ডিন, কড মাছ, ঝিনুকজাতীয় সামুদ্রিক খাবার, সামুদ্রিক শৈবাল (কেল্প, নোরি ও ওয়াকামে)।
২. দুগ্ধজাত খাবার
দুধ, টকদই, পনির।
৩. ডিম
পুরো ডিম, বিশেষ করে ডিমের কুসুম।
৪. ফল ও শাকসবজি
আলু, ক্র্যানবেরি, আলুবোখারা।
৫. শস্য ও ডালজাতীয় খাবার
বার্লি বা যব, মটরশুটি, মসুর ডাল।
৬. আয়োডিনযুক্ত লবণ
আয়োডিনযুক্ত খাবার লবণ।
আয়োডিনের ঘাটতি এড়াতে কী করবেন?
শরীরে আয়োডিনের ঘাটতি প্রতিরোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। লবণ কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত হওয়ার তথ্য দেখে নেওয়া উচিত। লবণ শুকনো ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করুন এবং রান্নার সময় দীর্ঘক্ষণ তাপে রাখার পরিবর্তে উপযুক্ত সময়ে ব্যবহার করুন।
একই সাথে মনে রাখতে হবে, আয়োডিনের প্রয়োজন পূরণ করতে গিয়ে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক মোট লবণ গ্রহণ ৫ গ্রামের কম রাখা উচিত।
শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের আয়োডিনের চাহিদা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। সুষম খাবার, পরিমিত আয়োডিনযুক্ত লবণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই আয়োডিনের ঘাটতি এড়ানোর কার্যকর উপায়।














