জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার »
শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে রাষ্ট্রপতি নিয়োগকৃত উপাচার্য (ভিসি) সহ ২০ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছে।
মঙ্গলবার সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস ও সামনের সড়কে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ফোরাম।
বিক্ষোভ সমাবেশে স্টুডেন্ট ফোরামের মুখপাত্র হোসাইন মূরাদ প্রিন্স বলেন, গত ৭টি বছর সুনামের সাথে চলে আসা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টির বিগত বছর-দেড়েক ধরে নাম ছাড়া কিছুই নেই। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ইউনিভার্সিটির নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি । কিন্তু কোন সুষ্ঠু সমাধান পাইনি। এখন আমাদের প্রথম দাবী রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত ভিসি চাই। আমাদের যদি কারো সাথে কথা বলতে হয় তবে রাষ্ট্রপতি নিয়োগকৃত ভিসি’র সাথে কথা বলব।
স্টুডেন্ট ফোরামের মুখপাত্র প্রিন্স আরো বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস নেই, উপচার্য নেই। পাশ করে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে অস্থায়ী প্রত্যায়নপত্র। এনিয়ে অনেক আলোচনা করেছি সংশ্লিষ্ঠদের সাথে। আমরা আর কথা বলতে চাই না। আমরা চাই রাষ্ট্রপতি নিয়োগকৃত উপাচার্য।আমরা আর মিথ্যা আশ্বাস শুনতে চাইনা। আমরা কার্যকরী কিছু দেখতে চাই।
তাদের দাবীগুলো হলো, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ, স্থায়ী ক্যাম্পাস, উন্নত ক্লাসরুম, যোগ্যতা সম্পন্ন রেজিষ্ট্রার, প্রক্টর ও ডিন, পর্যাপ্ত মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, স্বয়ংসম্পূর্ণ লাইব্রেরী ও কার্যকর ওয়েবসাইট, হিসাবরক্ষণ বিভাগকে পূর্ণবিন্যাস, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সেমিষ্টার সম্পন্ন করা, জরিমানা ও সেমিষ্টার ফি’র জন্য নির্দিষ্ট নিয়মকানুন করা, ট্রাস্টি বোর্ড ও প্রশাসনের গোলযোগ থেকে শিক্ষা কার্যক্রমকে মুক্ত রাখা, নিরপেক্ষ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিশ্চিতকরণ, সুগঠিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার, কমন রুম, ল্যাব সুবিধা নিশ্চিতকরণ, জাতীয় দিবস, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর ও ইন্ড্রাস্টিয়াল ভিজিট এবং কর্মশালার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, প্রতিষ্ঠিত এবং সক্রিয় ক্লাব সমূহকে প্রণোদনা ও অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, ক্যান্টিন সুবিধা নিশ্চিতকরণ, মানসম্মত শৌচাগার নিশ্চিতকরণ, বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ বন্ধ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ট্রাস্টি বোর্ডের দ্বন্দের নিরসন।
এদিকে, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার রুমে অবস্থান নেয়।
এসব বিষয় জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে দেড় বছর ধরে নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বলেন, আগে কোন কিছুই নিয়ম মতো চলেনি- আমরা ভার্সিটি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর এখন সবকিছু গুছিয়ে আনা হচ্ছে। এতোদিন করোনার কারণে সবকিছু স্তব্ধ থাকায় কাজে গতি ছল না। সামনের দিনে সবকিছু নিয়মমতো হবে। আমরা যাদেরকে পরিচালনা বোর্ড থেকে বের করে দিয়েছি, তারা কৌশলে এসব অভিযোগ তোলাচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, অতি শিগগিরই রাষ্ট্রপতি নিয়োগকৃত ভিসি আসবে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












