বাংলাধারা প্রতিবেদন »
শিল্পপতি হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে নিজের শোক প্রকাশ নিয়ে যথার্থ ব্যাখ্যা দিয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এদিকে এই ব্যাখ্যার সমর্থন জানিয়ে শিক্ষা উপমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে নিজের ফেসবুক একাউন্টের এক স্ট্যাটাসে শিক্ষা উপমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাবেক এই নেতা।
সাংবাদিক নেতা হাসান ফেরদৌস স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী, আপনাকে অভিনন্দন, কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ। চবি শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মীর কাসেম আলীর সহযোগীর মৃত্যুর পর দেয়া শোক বিবৃতির নিয়ে তিনি ব্যাখা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে তিনি একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিক হিসাবে প্রমাণ করেছেন।’
‘তিনি বলেছেন, তার সম্পর্কে জানতেন না। কিন্তু যেসব প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক সংগঠন ওই জামাত নেতাকে দানবীর হিসাবে প্রমাণের চেষ্টা করেছেন তারা কি জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন? নাকি সামান্য কয়টা টাকার জন্য এভাবে আদর্শ, চেতনাকে বিসর্জন দিবেন?’- লিখেছেন হাসান ফেরদৌস।
এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল নিজের ফেসবুকের এক স্ট্যাটাসে গতকাল সোমবার হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে দেয়া শোক নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল লিখেছেন, চট্টগ্রামের ‘কাশেম-নুর ফাউন্ডেশন’ এর প্রধান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন বাবলুর ভাই জনাব হাসান মাহমুদ চৌধুরীর মৃত্যুতে অনেকের মতো আমিও শোক প্রকাশ করেছি। তার সাথে আমার বিশেষ পরিচয় ছিলোনা। অস্ট্রেলিয়ায় চট্টগ্রাম সমিতির একটি অনুষ্ঠানে আমার সাথে প্রথম পরিচয়। যতদুর জানি এই ফাউন্ডেশন করোনাকালীন সময়ে দান অনুদান সহযোগিতা করেছে চট্টগ্রামে। তাই দানশীল ব্যক্তির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করাই স্বাভাবিক।
‘তবে অতীতে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের রাজনীতি করেছেন বলে আমাকে জানানো হয়েছে এবং এই অভিযোগও তোলা হয়েছে যে তিনি ছাত্রলীগ নেতা হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। আমি সেই সময়ের রাজনীতির প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম না, তবে যারা ছিলেন তারা এই কথা বলেছেন এবং যারা বলেছেন তারা ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীই ছিলেন।’- লিখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী।
ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ছাত্র শিবিরের খুনের আর বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যক্তির অপরাধ শুধুই কিছু টাকা দান করলেই মোচন হয়ে যাবেনা। অতীত রাজনৈতিক ও ফৌজদারি অপরাধের (যদি করে থাকে) অনুশোচনা তার ছিলো কিনা জানিনা, তবে সেই রাজনীতির প্রতি এবং এর ধারককে অবশ্যই ধিক্কার জানাই।
শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতি, খুন-হত্যা-রাহাজানির রাজনীতি, স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক শক্তিকে হত্যা করার রাজনীতি, কখনোই আর্থিক অনুদান দিলেই মোচন হয়ে যাবেনা, যেতে পারেনা। শিবিরের খুনের রাজনীতি এবং এই রাজনীতিকে যেই ব্যক্তিই ধারণ করেছে, যদি তা সত্য হয়ে থাকে এবং যদি অনুশোচনা না করে থাকেন তাহলে তার প্রতি সহানুভূতি এবং শোক প্রকাশের কোনো অবকাশ নাই।
বাংলাধারা/এফএস/এএ












