কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজার আদালত পাড়া থেকে নারীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া বলে দাবি করেছেন ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফিরোজ আহমদ। নিজেকে ওই নারীর স্বামী দাবি করে সেদিন এরকম কোন ঘটনাই ঘটেনি— উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, দাম্পত্য কলহকেই তার সাথে ওই নারীর কক্সবাজার পৌরসভা এলাকায় ধস্তাধস্তি হয়, যা বিভিন্ন মিডিয়ায় ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’ বলে মিথ্যা তথ্য প্রচারিত হয়েছে।
ওই নারীর মামলা নথিভুক্ত হবার পর সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের বাহারছরা পুরাতন সাইমন হোটেল এলাকার রান্নাঘর রেস্তোরাঁয় তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজ এসব দাবি করেন।
রুনাকে (ছদ্মনাম) নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে ফিরোজ বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া’কে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে প্রতিপক্ষ একটি গ্রুপের স্বার্থ হাসিলের জন্য চারজন যুবককে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন রুনা। রুনাকে ধর্ষণের কোন ঘটনা ঘটেনি। ওইদিন কক্সবাজার পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে তাকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করার চেষ্টা করেন রুমা। রুনা তার শার্টের কলার ধরে টানাহেচড়া করে হেনস্থা করলে পথচারিরা তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন।
ফিরোজ বলেন, ‘স্ত্রী রুনা সেখানে গিয়েও হেনস্থা করলে বাধ্য হয়ে তাকে নিয়ে পাশেই মামা বাড়িতে ঢুকে পড়ি। ওই সময় মামী আমার স্ত্রীকে থামানোর চেষ্টা করেন। ওই ঘটনাকে রুনা প্রতিপক্ষের লোকজনের যোগসাজসে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’র ঘটনা সাজিয়ে থানায় এজাহার দেন।’
ফিরোজের দাবি, এজাহারে যে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ‘ধর্ষণ মামলার আসামি’ বানানোর অপচেষ্টা করেছেন তাদের তিনজনের ঘটনার সাথে কোন সম্পর্কই নেই। আসামি তালিকায় থাকা ইসলামপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাজার এলাকার মোহাম্মদ শরীফ আগামি নির্বাচনে একজন চেয়ারম্যান প্রার্থী। তার ইমেজ নষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে তাকে আসামি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। অপর দুই আসামি সহোদর রাসেল উদ্দিন ও নুরুল ইসলামও এ ঘটনায় সম্পৃক্ত নয়। বরং তারা ঘটনার সময় নিজেদের বাড়ি থেকে একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বের হন। পথিমধ্যে রাস্তায় আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া দেখে আমাদের দুজনকেই সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে তারা তাদের কাজে চলে যান। আর আমার স্ত্রীকে আমি কেন ধর্ষণ করবো?— এ প্রশ্ন রাখেন ফিরোজ।
কিন্তু তারা স্বামী-স্ত্রী হলে ঈদগাঁও ছেড়ে কক্সবাজার শহরে এসে কেন ধস্তাধস্তিতে নামলেন— এমন প্রশ্নের সঠিক উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘সোমবার (১৪ মার্চ) সকালে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে এসে দ্বিতীয় স্ত্রী রুনা কোন কারণ ছাড়াই ১০ লাখ টাকা দাবি করে হেনস্থা করতে থাকে। পারিবারিক ঘটনা রাস্তায় আসাটাই বিশ্রী হয়েছে।’
এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজের দাবি সম্পর্কে রুনা বলেন, ‘আমি ফিরোজের বিবাহিতা বউ নয়। যদি সে কাবিন নামা উপস্থাপন করে, নিকাহ রেজিস্ট্রির মূল ভলিয়ামটা চেক করে দেখতে পারেন। প্রশাসনকে বোকা বানাতে সবরকম মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারে ফিরোজ। থানা-পুলিশের সাথে দহরম সম্পর্কের জেরে সে পুরো এলাকার অপরাধ ও অপরাধী নিয়ন্ত্রণ করে। এলাকায় সে যেটা চাই, তা-ই হয়। আমি আগের স্বামীকে ডিভোর্স দেয়ার পর সে আমাকে রক্ষিতা হিসেবে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি রাজি না হওয়ায় আমার জীবনে একের পর এক অঘটন ঘটাচ্ছে।’
রুনা বলেন, ‘সোনালী এন্টারপ্রাইজ নামে সিন্ডিকেট করে শরীফসহ বৃহত্তর ঈদগাঁওর ক্ষমতাশালী অপরাধীরা পাহাড় কেটে, বালু তুলে বিক্রি করে কাড়ি কাড়ি টাকা ঢুকাচ্ছে। এর জমাদার ফিরোজ। তাই অপরাধ সংগঠনেও ফিরোজ-শরীফরা গ্যাং হয়ে যান। যারা অভিযুক্ত তাদের সাথে আমার পূর্ব কোন শত্রুতা নেই। শহরে এত মানুষ থাকতে আমি এ চারজনকে কেন আসামি করলাম? সংবাদ সম্মেলনে ফিরোজই স্বীকার করেছে রাসেল ও তার ভাই ঘটনাস্থলে ছিল। তাদের বাড়ি আর ঘটনাস্থল এক জায়গায় নয়। তাহলে তারা অলৌকিক ক্ষমতায় এখানে হাজির হবার হেতু কি? বিয়েতে গেলে প্রধান সড়ক হয়ে যাবার কথা, তারা চিকন গলিতে এলো কি করতে? মূলত ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চেষ্টা করে’ নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে চেষ্টা চালাচ্ছে ফিরোজরা। ঈদগাঁওতে নিরবে নিরপেক্ষ তদন্ত করলে জানা যাবে ফিরোজ-শরীফরা কত জগণ্য। আমি নিপীড়নের ন্যায় বিচার চাই।’












