২৭ মার্চ ২০২৬

সড়কে মানুষের চলাচল কম হলেও অলিতে গলিতে যেন ঈদের আমেজ!

মো. সৈকত  »

চট্টগ্রামের নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতির কারণে লোকজনের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও বিভিন্ন এলাকার অলি-গলিতে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। সরকারের ঘোষিত সপ্তহব্যাপী কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে এইসব চিত্র দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) নগরীর সিটি গেইট, অলংকার, নয়াবাজার, বড়পোল, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, টাইগার পাস, জিইসি, ২নং গেইট, বহাদ্দার হাট ঘুরে পুলিশের চেকপোস্ট দেখা যায়। এসব চেকপোস্ট যারা অতিক্রম করছেন তাদেরকে পুলিশের জেরার মুখে পরতে হচ্ছে।

লকডাউনে চলাচলের জন্য পুলিশ বিশেষ মুভমেন্ট পাস চালু করলেও অধিকাংশ মানুষের এ নিয়ে কোন ধারণা নেই। ‘মুভমেন্ট পাস হল পুলিশের এক ধরনের বিশেষ পাস যার মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যক্তিরা সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। আবার অনেকের এ বিষয়ে জানা থাকলেও ওয়েবসাইটের ধীরগতির জন্য সংগ্রহ করতে পারছেন না।

মুভমেন্ট পাস নিয়ে কথা হয় কর্নেলহাট এলাকার বাসিন্দা জাফরের সাথে। তিনি জানান, আমি ২ ঘণ্টা চেষ্টা করেও মুভমেন্ট পাস নিতে পারি নাই। তাই বাধ্য হয়ে পাস ছাড়াই জরুরি ঔষধ কিনতে বের হয়েছি।

আবার কোন কোন ক্ষেত্রে অফিসগামীদের ছাড় দিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। এক্ষেত্রে তাদের আইডি কার্ড দেখেই যেতে দিচ্ছে পুলিশ।

কোন কোন পাড়া-মহল্লায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতির সুযোগে আড্ডা দিচ্ছেন কেউ কেউ। কেউবা নানান অজুহাতে ঘর থেকে বের হয়ে এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করছেন।

নগরীর আগ্রাবাদ মোড়ে কর্মরত এক পুলিশ সদস্য জানান, আমরা কাউকে অযথা হয়রানি করছি না। সঙ্গত কারণ ছাড়া যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন তাদের আমরা বুঝিয়ে আবার বাসায় পাঁঠিয়ে দিচ্ছি। এছাড়া যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন না তাদেরও সতর্ক করছি। আমাদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মাঝে মধ্যে পাড়া-মহল্লায় অভিযান চালাচ্ছি। যারা আড্ডা দিচ্ছেন তাদের বাসায় ফেরত পাঠাচ্ছি। সামনে থেকে আমরা আরও কঠোর হব। প্রয়োজনে জরিমানা করবো।

আবার লকডাউন কেমন চলছে সেটা পরিদর্শনেও বের হয়েছেন কোন কোন সচেতন নাগরিক। নগরীর ২নং গেইটে কথা হয় আল ফালাহ গলির বাসিন্দা হাসিবের সাথে। তিনি জানান, আমি একজন ব্যবসায়ী, মিমি সুপার মার্কেটে আমার দোকান রয়েছে। কোন কাজ না থাকায় লকডাউন কেমন চলছে সেটা দেখতে এসেছি। কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি আবার বাসায় চলে যাব।

এ সময় আল-ফালাহ গলির ভিতরে কয়েকজনকে জড়ো হয়ে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। করোনা এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে কেন বাসা থেক বের হয়েছেন, এ প্রশ্নের উত্তরে একজন জানান, সারাদিন বাসায় বসে থাকতে থাকতে বোর হয়ে গেছি। তাই একটু রিলাক্স হতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি। আড্ডা শেষ হলে বাসায় চলে যাব।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে লকডাউনের এসব চিত্র দেখা গেছে। প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশের উপস্থিতির কারণে লকডাউন কড়াকড়ি ভাবে চললেও পাড়া-মহল্লায় লকডাউন চলছে হেলফেলাভাবে।

বাংলাধারা/এফএস/এআর

আরও পড়ুন