বাংলাধারা প্রতিবেদন »
প্রণয় বর্মণ। এবার মেডিকেল কলেজে ভর্তির ফলাফলে মেধাতালিকায় ৪৩৬তম স্থান অধিকার করে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি। প্রণয় বর্মণের বাবা নারায়ণ বর্মণ পেশায় জেলে। হাওরে বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরেন। মা মণি বর্মণ এলাকায় পাথর ভাঙার কলে শ্রমিকের কাজ করেন। তবে বাবা এখন বেকার। মা সারা দিন খেটে যা পান, তা দিয়েই কোনোরকমে টেনেটুনে সংসার চলে। এমন অবস্থায় ঢাকায় যাওয়া, ভর্তি হওয়া, থাকা, লেখাপড়ার খরচই কীভাবে আসবে? এসব নিয়ে খুব চিন্তায় পড়েন প্রণয় বর্মণ। পরে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রথম অলো পত্রিকা।
প্রতিবেদনটি নজরে পড়ে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের। তিনি মেধাবী প্রনয় বর্মণের পাশে দাঁড়ালেন। প্রতি মাসে পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রণয়কে দেবেন বলেও জানান নওফেল। এ জন্য এরই মধ্যে প্রথম আলোর কাছ থেকে প্রণয়ের সঙ্গে যোগাযোগের মুঠোফোন নম্বর নেন তিনি।
এ দিকে একটি ফেসবুক পেজে প্রচার করা হয়েছে বিবাহ সূত্রে নওফেল যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব হয়ে গিয়েছে এবং তা সংবিধান লঙ্ঘন! উক্ত পেইজের লেখা নওফেলের নজরে এলে তিনি গত ৭ এপ্রিল নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজ থেকে এক বার্তায় লিখেন, এইসব উদ্ভট প্রচারকদের কারণে কেউ যদি বিভ্রান্তও হয়, তাই সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যতীত কোনো দেশের নাগরিক আমি কখনও ছিলাম না এখনও নেই!’
এ সময় তিনি লিখেন, ‘যুক্তরাজ্যে পড়াশুনা করলেই বা ওই দেশের কারো সাথে বিবাহ হলেই সেখানের নাগরিক হওয়া যায় না। বৈবাহিক সূত্রে নাগরিক হতে হলেও একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী হতে হয় এবং সর্বশেষ যা আমি শুনেছি প্রায় ছয় বছর সেখানে বিবাহ পরবর্তী নিয়মিত থাকতে হয়। সুতরাং, আমার অজ্ঞাতসারেও, বিবাহ সুত্রে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পেয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নাই!’
এর আগে, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক ইস্যুতে গত ৬ এপ্রিল এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানুষ যেমন ধর্ম ব্যবসায়ীদের প্রত্যাখ্যান করেছে তেমনি ভবিষ্যতেও করবে। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু তবে ধর্মান্ধ নয়।
তিনি আরও লিখেন, ‘পিতার ভাস্কর্য অপমানিত করার পর থেকে, এদের স্পর্ধার শুরু, এখন ১৭টি লাশের উপরে চলছে এদের “রিফ্রেশমেন্ট” জীবন। আগুন যারা জ্বালিয়েছে, পিতার ছবিতে হাত যারা দিয়েছে, এদের একটা একটা করে ধরে আনা হবে, আইনের সম্মুখীন করা হবে। সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, সর্ব পর্যায়ে এই কাঠমোল্লা গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামী লীগ বানের জলে ভেসে আসেনাই। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতি করতে চায় করবে, কিন্তু ধর্ম ব্যবসা করে মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালানোর পরিনাম এদের বোঝাতে হবে। আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি-জামাত ছাড় পায়নাই, এই ধর্ম ব্যবসায়ীরাও ছাড় পাবেনা। ইনশাল্লাহ।’
বাংলাধারা/এফএস/এআর












