২২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা

সাঁপমারা খালে ‘পাকা ব্রিজ’র সম্ভাবনা, বদলাবে ২০ হাজার মানুষের ভাগ্য

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সরেঙ্গা ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সাঁপমারা খালের ওপর থাকা জীর্ণ বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে পাকা ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৬৫ মিটার দীর্ঘ একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এতে দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হওয়ার আশা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, সরেঙ্গা বেড়িবাঁধ কাম রোড সড়কের প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার চেইনেজে সাঁপমারা খালের ওপর এই ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্রিজটি নির্মিত হলে রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজার-সদাই ও কর্মস্থলে যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

বর্তমানে খালের ওপর থাকা বাঁশের সাঁকোটিই স্থানীয়দের চলাচলের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হতে হয় শিশু শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। সাঁকোর অপরপ্রান্তে রয়েছে জে কে এস উচ্চ বিদ্যালয় এবং পূর্ব পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো ব্যবহার করে বিদ্যালয়ে যেতে হয়।

এ ছাড়া পশ্চিম পাশে সরেঙ্গা বাজার থাকায় বাজার-সদাই, চিকিৎসা ও কর্মস্থলে যাতায়াতসহ নানা প্রয়োজনে খুরুস্কুল ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সাঁপমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এবার ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগের খবর পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই সাঁকোটি দেখে আসছেন তারা। দূর থেকে সাঁকোটিকে শক্ত মনে হলেও মাঝপথে উঠলে বাঁশের নড়াচড়ার শব্দে আতঙ্ক তৈরি হয়। যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেঙে পড়তে পারে— এমন আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। পাকা ব্রিজ নির্মাণ হলে তারা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় মোট ছয়টি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সাঁপমারা খালের ওপরের ব্রিজটিও রয়েছে। প্রস্তাবটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

এ বিষষয়ে আনোয়ারা উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাকিব বলেন, সরেঙ্গা বেড়িবাঁধ সড়কের সাঁপমারা খালের ওপর বাঁশের সাঁকোটির তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। আমরা সবকিছু যাচাই-বাছাই করে পাঠিয়ে দিয়েছি। এটার অনুমোদনের জন্য আরও কিছু কাজ বাকি আছে। আশা করি, দ্রুত সময়ে এটার অনুমোদন হয়ে আসবে।

আরও পড়ুন