১৩ মার্চ ২০২৬

‘সালাউদ্দিন হটাও, দেশের ফুটবল বাঁচাও’

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

টানা ১২ বছর দেশের ফুটবলের সভাপতি থাকা কাজী সালাউদ্দিনের আমল নিয়ে সন্দিহান দেশের ফুটবল সমর্থকরা। বছরের পর বছর দেশের ফুটবলের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়াও র‌্যাঙ্কিংয়ের চরম অবনতি, দুর্নীতি, বেহাল ফুটবল নিয়ে আলোচনার থেকে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন এই বাফুফে বস। পুণরায় নির্বাচনে অংশ নেয়াতে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত ফুটবল সমর্থকরা ‘সালাউদ্দিন হটাও, দেশের ফুটবল বাঁচাও’ ‘জোরালো প্রতিবাদ’ শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের তিনবারের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন পুনরায় সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন। এ পদে পুণরায় জয়ী হবেন কী না তা সময় বলবে। তবে এই মুহুর্তে ফেসবুকজুড়ে চলছে ‘বয়কট সালাউদ্দিন’ রব। ‘আউট সালাউদ্দিন’, ‘বয়কট সালাউদ্দিন’, ‘রিজাইন সালাউদ্দিন’, ‘সেভ ফুটবল’, ‘বিএফএফ ইলেকশন’ হ্যাশট্যাগে ফেসবুকে প্রতিবাদে মুখর সমর্থকরা। ১২ বছরে বাফুফে বসের আমলের সমালোচনা নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট করে চলেছেন তারা। শুধু ফেসবুক নয় টুইটারেও ফিফা আর এএফসিকে ট্যাগ করে এই হ্যাশট্যাগে নিজেদের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ফুটবল গ্রুপগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত টাইমলাইনে ‘বয়কট বা আউট সালাউদ্দিন’ নামের হ্যাশট্যাগে সয়লাব হয়েছে।

বাফুফে সভাপতি হিসেবে কাজী সালাউদ্দিন দায়িত্ব নিয়েছেন ২০০৮ সালের ২৮ এপ্রিল। এরপর বিগত এক যুগ যাবত সভাপতির আসনে সালাউদ্দিন। এই ১২ বছরে ৭৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ম্যাচ জিতেছে মোটে ১৯টি। ড্র করেছে ১৮টি, হেরেছে ৩৭টি ম্যাচে। ভারত ও মালদ্বীপের সঙ্গে কোনো জয় নেই। সবথেকে বড় লজ্জা, ২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর থিম্পুতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ফিরতি ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩-১ গোলের পরাজয় ভুটানের বিরুদ্ধে। এরপর বিগত চারটি সাফ টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ।

গত চার বছরের খতিয়ান বলছে, বয়সভিত্তিক ও জাতীয় দলের বিদেশি কোচিং স্টাফের পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ব্যয় আর বয়সভিত্তিক স্তরে কিছু সাফল্য ছাড়া দৃশ্যমান বড় অর্জন নেই এই সময়ে। চার বছরে ১০০ কোটি টাকার ওপরে খরচ করেছে বাফুফে। যার মধ্যে প্রশাসনিক ব্যয়ই প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এ সময়ে ফিফার দেওয়া দুটি টার্ফ ছাড়া ফুটবলে কোথায়ও কোনো ইটও গাঁথা হয়নি। ফুটবলে এত টাকা খরচ হচ্ছে, অথচ আজ পর্যন্ত নিজস্ব একটা জিম নেই বাফুফের। শীর্ষ ফুটবলাররা এক মৌসুমে ৫০-৬০ লাখ টাকা করে পান, ফুটবলে দৃশ্যমান উন্নতি বলতে এটিই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের ফুটবলের অভিভাবক হয়ে শেষ ১২ বছরে তার শত-সহস্র প্রতিশ্রুতির ভিড়ে ব্যর্থতার মিছিল এবং পদ আঁকড়ে ধরার মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি সমালোচিত করেছে দেশের ইতিহাসের সবথেকে জনপ্রিয় এই ফুটবলারকে।

জানা যায়, ফুটবলের ঐতিহ্য ফেরাতে পরিবর্তন আশা করে হ্যাশট্যাগে মেতেছেন সমর্থকরা। এরই মধ্যে ‘বয়কট সালাউদ্দিন’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখান থেকে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে সেটাও আলোচনা করা হচ্ছে গ্রুপটিতে। প্রায় ৬ হাজার সদস্যের এই নতুন গ্রুপ থেকেই মূলত হ্যাশট্যাগের সূত্রপাত বলে জানা যায়।

এদিকে ‘ক্রীড়ালোক’ ম্যাগাজিনের সম্পাদক কামরুল হাসান নাসিম এই হ্যাশট্যাগকে সমর্থন করে লাইভে বলেন, ‘কাজী সালাউদ্দিনের প্যানেলের উচিত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা।’

২০১৬ তে বিতর্কিত এক নির্বাচনে টানা তৃতীয় দফায় সভাপতি নির্বাচন হওয়ার পর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, এটাই তার শেষ নির্বাচন। তবে নিজের অবস্থান থেকে ‘পল্টি’ নিয়ে কিছু কাজ ‘অপূর্ণ’ থাকায় আবারও নির্বাচন করতে নেমে পড়লেন সালাউদ্দিন। তবে সালাউদ্দিনকে আবারও বাফুফে সভাপতি পদে দেখা যাবে কিনা সে উত্তর পাওয়া যাবে আগামী ৩ অক্টোবরের নির্বাচনে।

বাংলাধারা/এফএস/ইরা

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ