কক্সবাজার প্রতিনিধি »
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় সালিশ বৈঠকে প্রতিপক্ষকে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী পুলিশের সাবেক সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বকতিয়ার উদ্দিন ভুট্টোকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) বিকেলে চকরিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করে সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বখতিয়ার উদ্দিন ভুট্টো (৪৫) ডুলাহাজারা ইউনিয়নের বৈরাগিরখীল এলাকার মৃত ফয়েজ আহমদের ছেলে। তিনি সর্বশেষ রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক হিসেবে প্রেষণে দায়িত্বরত ছিলেন। ঘটনার বিষয়ে মামলার পর ডিপার্টমেন্টের উপর মহলের নির্দেশে তাকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসা পারিবারিক শালিসে প্রতিপক্ষের মাসহ তিন সন্তানকে বীভৎস ভাবে কুপিয়ে জখম করে পুলিশের এএসআই বকতিয়ার। দুই সহোদরকে বেপরোয়া আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করায় এখনো একজন পঙ্গুত্বের পথে রয়েছে। আহতরা হলো, মৃত ডা. আবু তাহেরের ছেলে আবু দারদা, নোমান, কামরুল, তাদের মা রহিমা আক্তার।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টার এ ঘটনায় পরদিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রধান করে ১০ জনকে আসামী করে আহতদের পরিবার মামলা দায়ের করে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাসপেন্ড করেন।
রবিবার চকরিয়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলায় জামিনের আবেদন করলে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী লুৎফুর কবির মামলার প্রধান আসামী সাবেক এএসআই বকতিয়ার উদ্দিন ভুট্টোর গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, পারিবারিক বন্টনের বিরোধীয় জমি নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত শালিস বসে। বৈঠকে দু’পক্ষ তর্কাতর্কিতে জড়ায়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আকস্মিক পুলিশ কর্মকর্তা বখতিয়ার ও তার ভাই জসিম ধারালো কিরিচ হাতে মামাত ভাই হাফেজ আবু দারদা, নোমানদের উপর হামলে পড়ে।
ফিল্মী স্টাইলে সবার সামনেই বখতিয়ারের কিরিচের কোপে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের রং মহল এলাকার মরহুম ডা. আবু তাহেরের স্ত্রী রহিমা আক্তার, ছেলে হাফেজ আবু দারদা (৩৫), আবদুল্লাহ আল নোমান (৩০), কামরুল হাসান, ছেলের বউ ইয়াছমিন আক্তার।
পারিবারিক শালিসে প্রতিপক্ষের মাসহ তিন সহোদরকে বিভৎস ভাবে কুপানোর ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রধান করে আহতদের পরিবার মামলা করে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তার স্ত্রী এবং ঐ মামলার আসামী রেহেনা পারভিন লিপিকে বাদি বানিয়ে আহতদের আসামী করে থানায় পাল্টা মামলা করেন।
ঘটনার ৭দিন পরও আহতদের মামলার প্রধান আসামী এএসআই ভুট্টো গ্রেফতার না হওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের তদন্তে ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পেয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সুপারিশ করা হয়। সেই মতে ব্যবস্থা নেয় উর্ধতন মহল। অবশেষে রবিবার জামিনের আবেদন করে কারান্তরিণ হয়েছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা।
বাংলাধারা/এফএস/এআর












