ফাহিম আল সামাদ»
‘ট্রাফিক আইন মেনে চলুন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ট্রাফিক বিভাগের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ট্রাফিক সেবা সপ্তাহ ২০২২। মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে ট্রাফিক সেবা সপ্তাহের উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর।
এসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের সকলকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে, বিশেষ করে যারা পথচারী আছেন তাদেরকে ফুটপাত ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও অন্যান্য চালকদের নিরাপদ গতিসীমার মধ্যে গাড়ি চালাতে হবে। আমাদের চেষ্টা থাকবে সকলকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করা। যেহেতু এখন ‘ওমিক্রন’ পরিস্থিতি যদি স্বাভাবিক হয় তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে স্কুল-কলেজগুলোতে ট্রাফিক আইন বিষয়ক সেমিনার করার।‘

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ বলেন, ‘ট্রাফিক সেবা সপ্তাহের মূল উদ্দেশ্য নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন। চালক ও যাত্রীর নিরাপত্তা ও সড়কে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্যেই আমরা কাজ করে যাব। এছাড়াও সকলেই যাতে ট্রাফিক আইন মেনে চলে সেদিকেও আমরা নজর রাখবো। আর এর জন্যে চালক, যাত্রী এবং পথচারীদের সহায়তা প্রয়োজন।‘
উদ্বোধন শেষে সিএমপি কমিশনার ‘আমার গাড়ি নিরাপদ’ উদ্যোগের আওতায় রেজিষ্ট্রেশনকৃত গাড়িসমূহে কিউ আর কোড সম্বলিত স্টিকার লাগানোর কার্যক্রমের সূচনা করেন।
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, ‘আমার গাড়ি নিরাপদ’ উদ্যোগের আওতায় এখন পর্যন্ত নগরীর প্রায় সাড়ে বার হাজার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। এবং নিরাপদ সড়ক গড়ে তোলার অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই কার্যক্রমের আওতায় পর্যায়ক্রমে নগরীর সকল সিএনজিচালিত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, ‘আমার গাড়ি নিরাপদ’ এই উদ্যোগের আওতায় মহানগরী এলাকায় চলাচলরত বৈধ কাগজ সম্বলিত সব সিএনজি চালিত অটোরিকশার মালিক ও ড্রাইভারদের নির্দিষ্ট ফরম পূরণের মাধ্যমে ভেরিফাইড করার উদ্যোগ নেয় সিএমপি। এ উদ্যোগের আওতায় মালিক ও ড্রাইভারদের সব তথ্য পুলিশ সার্ভারে জমা রেখে প্রত্যেককে একটি আলাদা কিউআর কোড ও নিউম্যারিক আইডি কার্ড দেওয়া হবে। পরবর্তীতে যাত্রীরা এই আইডি অথবা কিউআর কোডটি স্ক্যান করে ড্রাইভার ও মালিক সম্পর্কিত সকল তথ্য জানতে পারবেন। আর এডভান্স লেভেলের ভেরিফাই করার জন্য যাত্রীর স্মার্টফোনে ‘হ্যালো সিএমপি’ (https://play.google.com/store/apps/details?id=com.hellocmp.design) অ্যাপসটি ইন্সটল করতে হবে। ড্রাইভার অথবা মালিক যদি সিএমপি কর্তৃক ভেরিফাইড হয় তাহলে অটোরিকশাগুলোতে ঝুলানো প্রিন্টেড কপিতে থাকা কিউআর কোডটি ‘হ্যালো সিএমপি’ অ্যাপে স্ক্যান করলেই যাত্রী তার স্মার্টফোনে মালিক ও ড্রাইভারের ছবি সম্বলিত তথ্য দেখতে পাবেন। যাদের স্মার্টফোন থাকবে না তারা চাইলেই তাদের ফিচার ফোন থেকে প্রিন্টেড কপিতে থাকা নিউম্যারিক কোডটি সিএমপি নির্ধারিত নম্বরে প্রেরণ করলে ফিরতি বার্তায় ড্রাইভার ও মালিক ভেরিফাইড কিনা তা জানানো হবে।
আমার গাড়ি নিরাপদ কার্যক্রম ও ট্রাফিক সপ্তাহ নিয়ে চালকরা জানান, ট্রাফিক আইন মেনে চললে জনসাধারণ নিরাপদে চলাচলের পাশাপাশি চালকরা নিরাপদ ভাবে গাড়ি চালাতে পারবে। অন্যদিকে, বিভিন্ন সময় সাধারণ যাত্রীরা তাদের অনেক মূল্যবান সামগ্রী সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ফেলে আসেন। যাত্রীরা যদি নিউমারিক আইডিটি অথবা কিউআর কোড স্ক্যান করে রাখেন পরবর্তীতে সহজেই সিএনজি চালিত অটোরিকশাটিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। সিএনজি মালিক তার গাড়ি যেকোনো চালককে দেওয়ার আগে সহজেই চালকের ভেরিফিকেশন কার্ড দেখে চালক সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবেন। একজন সিএনজি চালক ভেরিফাইড থাকলে যাত্রী ও গাড়ির মালিকের কাছে চালক সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।
অনুষ্ঠান শেষে সিএমপির উদ্যোগে ট্রাফিক সপ্তাহের লিফলেট ও নগরীর অটোরিকশা চালকদের মাঝে মাক্স বিতরণ করা হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মোঃ শামসুল আলম সহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পরিবহন মালিক শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বাংলাধারা/এফএস












