কক্সবাজার প্রতিনিধি »
আলোচিত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওসি প্রদীপের নিজস্ব লোক হিসেবে পরিচিত টেকনাফ থানার আরো এক পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামা্ন্না ফারাহর আদালত।
গ্রেফতারকৃত কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে এর আগে কক্সবাজার র্যাব-১৫ এর একটিদল দুপুর ১২ টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে করে বেলা পৌনে তিনটার দিকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলা কারাগারের সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেন।
কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার জানান, রুবেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। র্যাবের পক্ষ থেকে কোন ধরণের রিমান্ড চাওয়া হয়নি। আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. খায়রুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আলোচিত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় পূর্বে গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য আসামীরা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় পুলিশের কনস্টেবল রুবেল শর্মার নাম আসে। এ কারণে রবিবার রাতে র্যাবের একটিদল রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাবের কার্যালয়ে নিয়ে আসে। তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মেজর সিনহা হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
‘সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে তাকে কোনো রিমান্ড চাওয়া হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তীতে তাকে রিমান্ড নেয়া যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এরপর ৫ আগস্ট এ ঘটনায় ৯ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতে মামলা করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস। মামলাটি র্যাবকে তদন্তভার দেয়া হয়। ৬ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন পুলিশের ৭ সদস্য। গত এক মাসে র্যাব এপিবিএন’র ৩ সদস্য, পুলিশের মামলার ৩ সাক্ষীকে আটক করে মোট ১৩ জনকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়েছে। ১২ জন আসামী এ পর্যন্ত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সর্বশেষ রুবেল শর্মাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বাংলাধারা/এফএস/এএ












