জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার »
সিনহা হত্যা মামলার প্রধান আসামী লিয়াকতের পক্ষে জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হলো টানা ২ দিন বাদীর সাক্ষী। এ নিয়ে আসামী পক্ষের আইনজজীবীরা মসমলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসকে ১২ ঘণ্টা জেরা করেছেন। প্রথম দিন বাদীসহ ৩ জনের হাজিরা দিলেও বাদীর জেরা শেষ না হওয়ায় বাকীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার প্রথম দিনের অসমাপ্ত জেরা সকাল সোয়া ১০টা থেকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালতে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলে। শুরুতেই মামলার অন্যতম আসামী প্রদীপের পক্ষে বাদীকে জেরা করেন আইনজীবীরা। জেরার সময় বাদীকে মামলার মেরিটের বাইরেও বেশ কিছু প্রশ্ন করে বিব্রত করার চেষ্টা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবীরা।
বাদীর জেরা শেষ হওয়ার সাথে সাথে দ্বিতীয় দিনের অন্য কোন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেনি আদালত। ফলে বুধবার বাকি স্বাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রচেষ্টা চলবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী (পিপি) আইনজীবী ফরিদুল আলম।
পিপি বলেন, সোমবার (২৩ আগস্ট) মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস সিনহা হত্যাকান্ডের বিষয়ে সাক্ষী দেন। ঐদিনই হত্যাকান্ডের নানা বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ৫ ঘন্টা জেরা করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে অসমাপ্ত জেরা শুরু করেন আসামী পক্ষের আইনজীবীরা।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের পিপি ফরিদুল আলমের সঙ্গে এজলাসে প্রবেশ করেন মামলার বাদী শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। এরপর শুরু হয় জেরা গ্রহণ। প্রথমে জেরা শুরু করেন প্রদীপ কুমার দাশের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত। এরপর জেরায় অংশ নেন লিয়াকত আলীর আইনজীবী চন্দন দাশ। জেরার একপর্যায়ে বেলা সোয়া দুইটার দিকে আদালতের কার্যক্রমে এক ঘণ্টার জন্য বিরতি দেন বিচারক। বেলা সাড়ে তিনটায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা পুনরায় শুরু হয়।
দুপুরের বিরতিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণে প্রদীপের আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকান্ডের সঙ্গে প্রদীপ কুমার দাশ মোটেও জড়িত ছিলেন না। তিনি আদালতের কাছে সেটাই প্রমাণের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে মামলার বাদীকে জেরা করা হয়েছে। আদালতের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে দাবি করে তিনি আদালতের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মামলার বাদী ও নিহত সিনহা মো. রাশেদের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস আদালতকে বলেন, টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশের নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে খুন হন সিনহা মো. রাশেদ। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে হত্যাকান্ডের বিস্তারিত বিবরণ জেনে গত বছরের ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন তিনি। এ হত্যাকান্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তিনি অভিযুক্ত ১৫ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন আদালতের কাছে।
সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন মামলার অন্যতম আসামি প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৫ আসামি। আদালত পরিচালনা করেন জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।
এর আগে সকাল সোয়া নয়টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয় সিনহা হত্যা মামলার ১৫ আসামি পুলিশের তৎকালীন ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেবল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া ও কনস্টেবল সাগর দেবনাথ; আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও মো. আবদুল্লাহ এবং টেকনাফের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের তিন ব্যক্তি নুরুল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিনকে।
উল্লেখ্য, গেল ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ বাহারছড়া শামলাপুর মেরিন ড্রাইভ সড়কের এপিবিএন’র পুলিশ চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর অব: সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় ঐ বছরের ১৩ ডিসেম্বার ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী সংস্থা র্যাব-১৫ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো: খায়রুল ইসলাম।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












