১৭ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে ‘সন্ত্রাসী’ আস্তানায় র‌্যাবের হানা, অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৫

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি »

সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ি এলাকায় ‘সন্ত্রাসীদের’ আস্তানায় মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ পাঁচজনকে আটক করেছে র‌্যাব।

শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ১০ টায় জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় শিবলুর ঘর থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটকরা হল— রফিকুল ইসলাম মালু (৪১), মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৪), মো. হাসান (৩৫), জামাল শেখ (৪৭) ও মিজানুর রহমান কদর (৪০)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) নুরুল আবছার।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ১০টি দেশিয় আগ্নেয়াস্ত্র, ১টি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১টি ধারালো ছোরা এবং মোট ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তাদের আস্তানা থেকে মিলিটারি গেজেট, মিলিটারি পোশাক, মিলিটারি বাইনোকোলার ও অবৈধ ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়।

আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘ দিন ধরে সীতাকুণ্ড থানার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, সরকারি জমি প্লট আকারে লোক জনের কাছে বিক্রি করে টাকা আদায় করে। ওই এলাকায় গরীব বসতি লোকজনের কাছ থেকে বিদ্যুতের মিটার না দিয়ে মশিউরের নিজ মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বিদ্যুতের সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করতো। এছাড়াও উক্ত এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং নিজেদের অপরাধকর্ম চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে মশিউর ও তার ছেলে শিবলু একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে।

গ্রেপ্তার আসামি রফিকুল ইসলাম মালুর বিরুদ্ধে নগরীর বায়েজিদ থানায় ১টি মামলা, সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৫টি অস্ত্র মামলা, মো. হাসানের বিরুদ্ধে ৭টি, জামাল শেখের বিরুদ্ধে ১০টি, মিজানুর রহমান কদরের বিরুদ্ধে ১০টিরও অধিক মামলা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ ডিসেম্বর দেশি-বিদেশি অস্ত্রসহ ২৭ মামলার আসামি মশিউর রহমানকে ওই এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব। মশিউর ‘ছিন্নমূল বস্তিবাসী’ নেতা। ওই সময় তার কাছ থেকে দেশি-বিদেশি কয়েকটি অস্ত্র ও ১৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি এক যুগ ও অধিক সময় ধরে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অপহরণ, সরকারি পাহাড় দখল করে প্লট করে ভূমিহীন ও বিভিন্ন পেশার লোকদের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

আরও পড়ুন