২৬ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে ১ হাজার হেক্টর কৃষি জমিতে অগ্রিম মৌসুমে লাখ লাখ টাকার শিম বিক্রি

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি»

চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডে অগ্রিম  আশ্বিনী শিমের বাম্পার ফলনে  কৃষকদের মুখে হাসি। প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমিতে এই অগ্রিম আশ্বিনী শিম চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর সীতাকুণ্ড উপজেলায় খুব ভাল আশ্বিনী  শিম উৎপাদন হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের। আশ্বিন, কার্তিক মাসে এই শিম ফলনে প্রতি কেজি শিম গড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সীতাকণ্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা তাদের জমিতে, জমির পাশে, খালের পাড়ে, বেড়িবাঁধের দুইপাশে, পাহাড়ে এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দু’পাশসহ সব জমিতেই শিমের চাষ চোখে পড়ে।

পৌরসভার নুনাছড়ার কৃষক সফিকুল আলম বলেন, এবারো তিনি তিন কানি জমিতে এই শিম চাষ করেছেন। এই চাষে তিনি মাত্র দুই  মাস সময় দিয়ে ভালো আয় করেছেন বলে জানান।ছুফ,সার বিষ ব্যবহারে বেশ খরচ হলেও আশ্বিন মাস থেকে তিনি সিম বিক্রি করে আসছেন, প্রথম থেকে পাইকারী একশত টাকা কেজি বিক্রি করেছেন,বর্তমানেও ৭০/৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

সৈয়দপুর  ইউনিয়নের উত্তর বগাচতর গ্রামের কৃষক নুরনবী জানায়,তিনি বেঁড়িবাধে ও আশপাশের  দুই কানি জমিতে শিম চাষি করেছেন,ফলনও হয়েছে ভাল,এযাবত লক্ষটাকার উপরে বিক্রি করেছেন সিম।

কৃষক সোলেমান বলেন,ফলন ভাল হবেনা মনে করে বিশ শতক জমিতে মিম চাষ করেছি ভাল ফলন হয়েছে,কার্তিক মাসে  বংশ পরম্পরায় কাত্তিকোটা, ছুরি, পুঁটি, বাটাসহ ছয় ধরনের শিমের চাষ হয়ে হয়ে থাকে  সীতাকুণ্ডে,তিনিও ৩/৪ কানি জমিতে করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অগ্রিম ও মৌসুমের   শিম পাইকারদের কাছে বিক্রি করে থাকি।মৌসুমের শেষের দিকে  এরপর দাম কমে গেলে কাঁচা শিমের বিচি খুলে ৭০/৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকি। যা চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘খাইস্যা’ নামে পরিচিত। শুকনো শিমের বিচি সারা বছরই বিক্রি হয়।বীজ হিসেবে পরের বছরের প্রথম দিকে ২০০/২৫০ টাকা কেজি বিক্রি করা যায়।

বাড়বকুণ্ডের নতুনপাড়া গ্রামের জরিফ আলী জানায়,  অগ্রিম সিম   প্রতি কেজি শিম পাইকারী ৭০  টাকা বিক্রি করছি,খুরচা ৮০/৯০ টাকা ও বিক্রি হচ্ছে।  ধান চাষের চেয়ে সিম চাষ  বেশ লাভজনক। সবচেয়ে বড় কথা সীতাকুণ্ডের মাটি শিম চাষের জন্য খুব উপযোগী। সীতাকুণ্ডের সিমের বিচি খাইস্যা রফতানী হলেও সিমের রফতানী তেমন চোখে পড়ছেনা,শিম রফতানি হলে আমরা আরও বেশি লাভবান হব।তাছাড়া কিছু কোম্পানী সীতাকুণ্ডের কৃষি জমি বেশী টাকা দিয়ে ক্রয় করে তাদের দখলে নিয়ে ফেলে রাখছে।ফলে কৃষি জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র নাথ জানান, দক্ষিণ সীতাকুণ্ডে সন্দীপ চ্যানেলের ভাঙ্গনে নদী মহাসড়কের আধা কিলো কাছে চলে এসেছে,বেঁড়িবাধ দখলে নিয়েছে শিপ ইয়ার্ড শিল্প।ফলে ফসলি জমি কম, শিল্প-কারখানা বেশি। উত্তর সীতাকুণ্ডে চাষের জমি বেশি। শীতকালে এ উপজেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে শাক সবজির চাষ হয়। এর মধ্যে শিম চাষ হয় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে। বিশেষ করে বগাচতর,পশ্চিম সৈয়দপুর,বগাচতর,মহানগর,পূর্ব সৈযদপুর,জাফর নগর,বাকখালী, বারৈয়ারঢালার  নুনাচরা, বটতল, শেখপাড়া, গুপ্তাখালি, বাঁশবাড়িয়া, মুরাদপুরের গুলিয়াখালী,হাসনাবাদ,রহমত নগর, বাড়বকুণ্ডের মান্দারীটোলা,অলিনগর,মিজিপাড়া,ভূলাইপাড়া,নডালিয়া, বাঁবাড়িয়ার নুনাবিল,রহমতের নগর,কুমিরা, ভাটিয়াযারী বাড়বকুণ্ড,বাশঁবাড়িয়া,সীতাকুণ্ড সদর বারৈয়াঢালা ইউনিয়নে পাহাড়ী এলাকায় শিম চাষ বেশি হয়। তিনি জানান, দেশের অন্যান্য স্থানে একই জমিতে তিনবার চাষ হয়- আউশ, আমন, বোরো। কিন্তু সীতাকুণ্ডের চাষিরা নিয়মিত শিমের চাষই করেছেন বোরো ধানের বদলে ।

ছোট কুমিরার রবি চাকমা জানায়,অগ্রিম সিম ফলন হলে বেশী দাম পাওয়া যায়,তিনিও কিছু পাহাড়ী জমিতে সিম চাষ করেছেন,লাভবান ও হয়েছেন,তবে তারা প্রায় ৪০ পরিবার রয়েছে ছোট কুমিরাঢ তাদের নিজের জমি নাই,পরের জমিতে চাষ করতে হয় খাজনার বিনিময়ে,সরকারী পাহাড় তাদের কে বরাদ্ধ দেয়ার দাবীও জানান।

ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে মৈসুমী সিম চাষের প্রস্তুতি,অগ্রিম সিম গাছের ফলন শেষ হলেই একই ছুফে মৌসুমী সিম গাছ বাউনী হিসেবে ব্যবহার হযে থাকে,সীতাকুণ্ডের সিম দেশ বিদেশে বেশ সুনাম বযে আনছে বহুদিন ধরে।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন