৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা ও ফাওজুল কবির খান

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বাস্তবায়নাধীন সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন সরকারের দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোঃ ফাওজুল কবির খান সফরসঙ্গীসহ ঢাকা থেকে আর্মি এভিয়েশনের হেলিকপ্টারে করে মেনদনপাড়া আর্মি ক্যাম্পে (৩১ বীর) পৌঁছান।

এ সময় ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের প্রকল্প পরিচালক কর্নেল তানিম শাহরিয়ার, এএফডব্লিউসি, পিএসসি উপদেষ্টাদ্বয়কে অভ্যর্থনা জানান।

সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা স্কটসহ পাজারো গাড়িযোগে উপদেষ্টাদ্বয় পোয়ামুহুরী ইসিবি প্রকল্প ক্যাম্পের (১৭ ইসিবি) উদ্দেশ্যে রওনা হন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট থেকে ১২টা ৫৫ মিনিট পর্যন্ত তারা ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, চট্টগ্রামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত পোয়ামুহুরী ইসিবি প্রকল্প ক্যাম্পের আওতাধীন সীমান্ত পিলার–৫৭ এলাকায় চলমান সড়ক নির্মাণ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টারা প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণমান, ব্যবহৃত কারিগরি পদ্ধতি এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক নির্মাণে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় তারা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ সম্পন্নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দুপুর ১টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত উপদেষ্টাদ্বয় ও সফরসঙ্গীরা পোয়ামুহুরী ইসিবি প্রকল্প ক্যাম্পের অফিসার মেসে মধ্যাহ্নভোজ গ্রহণ করেন। পরে ১৭ ইসিবি ক্যাম্পের গোলঘরে বিশ্রামের পাশাপাশি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও কৌশলগত আলোচনা করেন।

আলোচনায় সীমান্ত সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, জরুরি সেবা সহজলভ্য করা এবং দুর্গম এলাকায় রাষ্ট্রীয় উপস্থিতি আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

দুপুর ২টা ১০ মিনিটে উপদেষ্টাদ্বয় পোয়ামুহুরী প্রকল্প ক্যাম্প ত্যাগ করে মেনদনপাড়া আর্মি ক্যাম্পে প্রত্যাবর্তন করেন। পরে বিকাল ২টা ৩৮ মিনিটে সফরসঙ্গীসহ হেলিকপ্টারে করে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

পরিদর্শনকালে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব খন্দকার মুশফিকুর রহমান, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড চট্টগ্রামের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শামছুল আলম, এনডিসি, পিএসসি, প্রকল্প পরিচালক কর্নেল তানিম শাহরিয়ার এবং স্টাফ অফিসার–১ (পরিকল্পনা) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু খালেদ আল-মামুন, পিএসসি-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা।

উপদেষ্টারা বলেন, সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম জনগোষ্ঠীর সঙ্গে দেশের মূল যোগাযোগ ব্যবস্থার সংযোগ আরও সুদৃঢ় হবে। একই সঙ্গে এটি উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও আস্থার সেতুবন্ধন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ