১৭ মার্চ ২০২৬

সৈকতের বালিয়াড়িতে যেন মিলনমেলা

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক »

ঈদের ছুটি শেষে আবারো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা তিন দিনেরে ছুটি ভোগ করেছে। বেশির ভাগ সরকারি আমলারা ছিল শুক্রবার সকাল থেকেই পর্যটন স্পটে স্পটে। কক্সবাজার আর পতেঙ্গায় বিনোদন প্রেমীদের আনন্দ সময় কেটেছে সমূদ্রের ঢেউয়ের তালে তালে। ঈদের ছুটির পর সরকারি ছুটির ফাঁদে এবার পর্যটন স্পটগুলো টইটুম্বুর। এ ছাড়াও সমুদ্র উপকূলে বাতাসের ছোঁয়া লাগাতে ছুটে গেছে নগরবাসী পতেঙ্গা ছাড়াও কাট্টলী, দক্ষিণ হালিশহর, কুমিরা আর বাড়বকুন্ডের সমুদ্র সৈকতে। সমুদ্রের বালিয়াড়িতে নিজের নাম লিখে জোয়ারের পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে পর্যটকরা।

এমন ঘটনা ঘটেছে টিনেজদের আর জুটিবদ্ধদের ক্ষণিকের একাগ্রচিত্তে বেড়ানোর তালে। এ দুটি স্পটকে ঘিরে বিশেষ করে শেষ মুহূর্ত যেন কেটে যায় পর্যটকদের। কর্ণফুলী নদীর মোহনায় থাকা ভিআইপি সড়ক যেন রাত অবধি আগতদের ডামাঢোলে মেতে থাকে। এছাড়াও চট্টগ্রামে বিনোদনপ্রেমীদের ঈদের আনন্দের ঘনঘটা কেটেছে পাহাড় বেষ্টিত তিলোত্তমানগরী ফয়’স লেক ও সী-ওয়ার্ল্ড স্পটে।

শনিবার নয়নাভিরাম হৃদয়টানা স্পট ফয়’স লেক এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আগতদের ভিড়ে তিল ধারণের ক্ষমতা নেই। লেকের ঘাটে বাধা নৌকাগুলো যেন এত পর্যটক একসঙ্গে অনুভব করেনি। নিদারুণ এ দৃশ্যে নবাগতদের মধ্যে সঞ্চারিত হয় আনন্দের জোয়ার। লেকের ঘাট থেকে লেকের শেষান্তে থাকা সী-ওয়ার্ল্ড পর্যন্ত ইঞ্জিন বোট, স্পীড বোট আর প্যাডেল বোটে ভ্রমণ সবচেয়ে বেশি ছিল শুক্রবার। ভ্রমণ পিপাসুদের এমন আগমনে ফয়’স লেকের রিসোর্টগুলো পরিপূর্ণ এখন । ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লেকের ধারে গভীর রাতে কেমন অনুভূতি তা পর্যবেক্ষণ করতেই এ রিসোর্টগুলো কাঁনায় কাঁনায় পূর্ণ হয়েছে। তবে রাত যাপনের ক্ষেত্রে বিছানার সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় চাহিদা পুরণ করতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছরই এমন একটা চাপ থাকে সেখানে।

এদিকে, লেকের শেষ প্রান্তে থাকা সী-ওয়ার্ল্ডেও যেন কমতি নেই পর্যটকদের। ফয়’স লেক হয়ে সী ওয়ার্ল্ডে যেমন প্রবেশাধিকার রয়েছে পর্যটকদের। তেমনি আকবর শাহ থানাধীন ফিরোজ শাহ এলাকা দিয়েও পর্যটকরা সরাসরি প্রবেশ করেছেন এ বিনোদন কেন্দ্রে। বিভিন্ন ধরনের রাইডস উপভোগ করে মোহিত হয়েছেন আগতরা।

শনিবার বিকেলে সূর্যাস্তের ঠিক আগ মুহূর্তে অর্থাৎ দিনের ক্রান্তিলগ্নে পর্যটকের ভিড়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে যেন তিল ধারণের ক্ষমতা নেই। বালিয়াড়িতে হেঁটে আর নোনা পানিতে পা ভিজিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে জোয়ার ভাটার খেলায় কেন বালিয়াড়ির কোন রদ বদল হয় না। প্রকৃতির এ লীলা খেলার কোন শেষ কি আছে? অনেকে আবার অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে দেখেছেন ঢেউয়ের আছড়ে পড়া। ছোট ইঞ্জিন নৌকা আর স্পীড বোটের দ্রæতগতিও জোয়ারের চাপ সামলাতে পারছে না। ঢেউয়ের কবলে পড়ে দোদুল্যমান হয়ে পড়েছে নৌকায় ও স্পীড বোটে থাকা পর্যটকরা। অনেকেরই জানা নেই সমুদ্রে প্রতিদিন দুবার জোয়ার এবং ভাটা হয়। এ জোয়ার ভাটার টানে চট্টগ্রাম বন্দরের লোডিং আনলোডিং যেমন নির্ভর করে তেমনি উপকূলীয় এ অঞ্চলের ভাসমান ব্যবসায়ীরাও তাদের রোজগারের ব্যবস্থা করে পর্যটকদের কেন্দ্র করে।

ঢাকা থেকে আসা কায়সার এবং শান্তা প্রেমিক যুগল জানিয়েছেন, সমুদ্রের নিকটে আসা এই প্রথম ক্ষণ তাদের। বইয়ের পাতায় আর টেলিভিশনের পর্দায় অনেক দেখেছেন। কিন্তু কাছে আসার সুযোগ হয়ে উঠেনি। দু’জনই পৃথকভাবে চট্টগ্রামে আগ্রাবাদে ও নাসিরাবাদে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু ডিজিটাল এ যুগে মোবাইল ফোনের সংযোগই তাদের এক করে দিয়েছে সমুদ্রের বিশালতায়। পরিপূর্ণতা এসেছে আবেগঘন পরিবেশের মধ্যে। স্মৃতির অকপটে তাদের এ স্থান থেকে যাবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।

আরও পড়ুন