২৭ মার্চ ২০২৬

স্কুল শিক্ষক যখন ইয়াবার গডফাদার!

বাংলাধারা প্রতিবেদন »

স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এলাকায় পরিচিত মো. জয়নাল আবেদীন (৪২)। তিনিই আবার ইয়াবা সাম্রাজ্যে পরিচিত ‘দুলাভাই’ নামে। তার আসল নাম জানে না কেউই, চেহারাও কখনও কেউ দেখেনি কেউ। তার একমাত্র পরিচয় ছিল শুধু একটি মোবাইল নম্বর ।

মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) গভীর রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার দেওয়ানহাট মোড় এলাকা থেকে এমনই একজন ইয়াবার গডফাদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যে গ্রেফতার করা হয় তার আরও দুই সহযোগীকে। উদ্ধার করা হয় প্রায় ২১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা ও নগদ ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গ্রেফতার জয়নাল কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার জুলহারপাড়া গ্রামের মো. সিদ্দিক আহমেদের ছেলে। বাকি দুইজন হলেন- তার শ্যালক মো. মোবারক হোসেন (২৭) ও মো. রেজাউল করিম দিদার (৩১)।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পশ্চিম) পংকজ দত্ত বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে দেওয়ানহাটে একটি দোকানের সামনে থেকে জয়নাল আবেদীনকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে তার দুই সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ২১ হাজার ৭০০ পিস ইয়াবা ও সাড়ে ৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।’

ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, জয়নাল আবেদীন একজন ইয়াবার গডফাদার। সবার কাছে পরিচিত ‘দুলাভাই’ নামে। চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবার অন্যতম প্রধান যোগানদাতা তিনি। তার নাম কেউ জানে না, কেউ কখনও দেখেনওনি তাকে। শুধুমাত্র একটি মোবাইল নম্বরই ছিল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার পরিচয়। সেই নম্বরে ফোন করলেই তিনি ইয়াবা নিয়ে হাজির হতেন। ইয়াবা দিয়ে সেই নম্বর আবারও পাল্টে ফেলতেন। দু’দিন আগে প্রায় ২২ হাজার পিস ইয়াবাসহ চালক-হেলপারকে গ্রেফতারের পর উঠে আসে এই দুলাভাইয়ের নাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে দেওয়ানহাট মোড়ে এক হাজার ৭০০ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বায়েজিদ থানাধীন হাজীরপুল এলাকায় তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে তার বাসায় লুকিয়ে রাখা একটি শপিং ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় আরও ২০ হাজার ইয়াবা। গ্রেপ্তার করা হয় তার দুই সহযোগীকেও।

তিনি আরও বলেন, ইয়াবার গডফাদার হলেও তার ইয়াবা কারবারের ঘটনা এলাকাবাসী জানে না। এলাকায় তিনি পরিচিত স্কুল শিক্ষক হিসেবে। কুরুসকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করতেন।

এর আগেও একবার ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি মূলত কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে নিজের কাছে মজুদ করেন। এরপর তা সারাদেশে বিক্রি করেন।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন