সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার »
‘বাঙ্গালী (রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার হোস্ট কমিউনিটি) আমরা দেখি না, বাঙ্গালী দেখে থানা। ক্যাম্পের ভিতরে হউক, সে কিন্তু বাঙ্গালী। যদি রোহিঙ্গা হতো তাহলে আমরা দেখতাম।’
কক্সবাজারের উখিয়ার থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ১৯ এর আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা এপিবিএন-১৪ এর ওসি মাহবুবুর রহমানের এমন কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে ফিরছে।
উখিয়ার থাইংখালী ঘোনারপাড়া এলাকা থেকে সিএনজি চালক আব্দুল খালেক (২৪) নামে এক যুবক রোহিঙ্গাদের কথিত সংগঠন আল ইয়াকিন সদস্য কর্তৃক অপহরণের শিকারের পর তাকে উদ্ধারে ওসি মাহবুবের সহযোগিতা চাইলে তিনি এসব কথা বলেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
রবিবার (২৯ আগস্ট) ভোররাত দুইটার দিকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের শিকার যুবককে উদ্ধারে সহযোগিতা চেয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯ এর ইনস্পেক্টর (ওসি) মাহবুবুর রহমানকে ফোন করেন অপহৃতের আত্মীয় পরিচয়ে আবছার নামে এক ব্যক্তি। কিন্তু সহযোগিতার আশ্বাস না দিয়ে উল্টো স্থানীয়দের (হোস্ট কমিউনিটি) উদ্ধারের দায়িত্ব তারা পালন করেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন ওসি মাহবুব। এ সংক্রান্ত প্রায় দুই মিনিট ব্যাপ্তির তাদের কথোপকথনের এ অডিও ফাঁস হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনাসহ এলাকায় আলোড়ন চলছে।
অপহৃত আব্দুল খালেক পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী ঘোনারপাড়া এলাকার নজির আহম্মদের ছেলে।
সামালোচনা বেড়ে যাওয়ায় ক্যাম্প-১২ এ অভিযান চালিয়ে রবিরার সকালের দিকে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাথে জড়িত অভিযোগে রফিক উল্লাহ (২৫) নামে এক রোহিঙ্গাকে আটকও করেছে পুলিশ। আটক রফিক ক্যাম্প নং ১২ এর ব্লক সি-৭ বাড়ী নং ২১২৪৩২ এর বাসিন্দা মো. ইউছুপের ছেলে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওতে যুবককে ওসি বলছেন, বাঙ্গালী আমরা দেখি না, বাঙ্গালী দেখে থানা। ক্যাম্পের ভিতরে হউক, সে কিন্তু বাঙ্গালী। যদি রোহিঙ্গা হতো তাহলে আমরা দেখতাম।
কথোপকথনে যা বলেন-
যুবক-আসলাম আলাইকুম স্যার, স্যার আমি ঘোনার পাড়া থেকে আবছার বলছি। একটি বিপদে পড়ে ফোন দিয়েছিলাম স্যার।
ওসি-বলেন।
যুবক-স্যার এ যে ক্যাম্প-১৯ সি-৬ এলাকা থেকে আমার একটা আত্মীয় আব্দুল খালেকের নাম, স্থানীয় একটা লোক। আল ইয়াাকিনরা কিছুক্ষণ হইছে, ১০/১৫ মিনিট হইছে তুলে নিয়ে গেছে মুখ বাইধা। বাড়ি থেকে ।
ওসি-তোমরা থানায় যাও, বাঙ্গালি তো আমরা দেখি না। বাঙ্গালী তো দেখে থানা।
যুবক-স্যার এটা তো ক্যাম্পের ভিতরে স্যার।
ওসি-ক্যাম্পের ভিতরে হউক কিন্তু সে তো বাঙ্গালী। হোস্ট কমিউনিটি তো..। হোস্ট কমিউনিটি আমরা দেখি না। তোমরা যোগাযোগ কর থানার সঙ্গে। যদি রোহিঙ্গা হতো.. রোহিঙ্গাদের যদি নিয়ে যেত তাহলে আমরা দেখতাম। কিন্তু বাঙ্গালী তো আমরা দেখিনা।
যুবক-স্যার, বাঙ্গালী রোহিঙ্গা নিয়ে গেছে স্যার। রোহিঙ্গা বাঙ্গালী ছেলেকে নিয়ে গেছে স্যার।
ওসি-আমার কথা কি বুঝতে পারনি..?
যুবক-জি স্যার জি স্যার, বুঝছি স্যার।
ওসি-বাঙ্গালীদের কোন ঘটনা আমরা দেখিনা, বাঙ্গালীদের সম্পূর্ণ ঘটনা দেখে হলো থানার পুলিশ। রোহিঙ্গাদের দেখার জন্য হচ্ছি আমরা। বুঝা গেছে কথা
যুবক-জি স্যার জি স্যার।
ওসি-তোমার এখন থানায় যেতে হবে। থানায় চলে যাও, থানায় গিয়ে বল। যে যে নিয়ে গেছে থানায় গিয়ে নাম বল।
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন বলেন, রাত আড়াইটার দিকে আমার কাছে খবর আসে এলাকার এক যুবককে অপহরণ করেছে রোহিঙ্গা দুর্বৃত্তরা। তাকে উদ্ধারের জন্য সহযোগিতা চেয়ে যুবক আবছার ওসিকে ফোন করে সহযোগিতা না করে উল্টো স্থানীয়দের উদ্ধারের বিষয়ে তার করার কিছু নেই বলা দুঃখজনক।
জানতে চাইলে ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, যে অডিওটি ফাঁস হয়েছে তা আমার নয়। বরং খবর পেয়ে আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। একই সাথে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়।
তবে, অডিও এর বিষয়টি অবগত হয়েছে জানিয়ে এপিবিএন-১৪ এর পুলিশ সুপার নঈমুল হক বলেন, তিন মাস পর পর আমাদের অফিসার বদলি হয় । তিনি (ওসি মাহবুব) হয়তো মনে করেছেন ক্যাম্প এলাকায় স্থানীয়দের বসতি নেই। এমন চিন্তা থেকে এসব কথা বলে থাকতে পারেন।
তিনি বলেন, শুধু মানুষের নিরাপত্তা নয়, পশুপাখির নিরাপত্তা দেয়াও আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
বাংলাধারা/এফএস/এআই












