বাংলাধারা ডেস্ক »
স্বাধীনতার ৫০ বছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৩১ বিলিয়নের বেশি রেমিট্যান্স, যা দেশের উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা ১৬৮টি দেশে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবাসী নিরন্তর দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে চলেছেন। সুতরাং প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা আরো বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে স্থানীয় সকল পর্যায়ে প্রবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।
রোববার (২২ আগস্ট) নিউইয়র্ক শহরে ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত অর্থনৈতিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
নিউ ইয়র্কের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে প্রবাসীদের অবদান’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। ইউএস বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ লিটন আহমদ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মশিউর রহমান বলেন, প্রবাসীদের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে এবং প্রবাসীরা দেশে যে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন তা দেশের উন্নয়নে এক বিশাল ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আমদানি বাণিজ্য ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে। সুতরাং প্রবাসীরা তাদের জানমালসহ সকল বিষয় অগ্রাধিকার পাওয়ার অধিকারী।
প্রবাসীদের প্রশ্নের জবাবে মশিউর বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগকারীর এবং বিনিয়োগের নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি নেই।’
দূতাবাস অথবা কন্স্যুলেটে বিনিয়োগ সেল থাকলে প্রবাসীরা সরাসরি এখান থেকেই বাংলাদেশে প্রত্যাশিত সেক্টরে বিনিয়োগ করার সুযোগ পাবেন- এ প্রসঙ্গে মশিউর বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন সেল খোলার সম্ভাবনা বিস্তারিত উল্লেখ করে ঢাকায় পাঠালে আমরা তা বিশ্লেষণ করবো। কারণ, একইসাথে অনেকগুলো সেল খুললে কোনোটাই হয়তো কার্যকর হবে না, অথচ অর্থ ব্যয় করতে হবে রাষ্ট্রকে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এনআরবি চেয়ারপারসন সেকিল চৌধুরী বলেন, গত ৫০ বছরে প্রবাসীরা বৈধ পথে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৩১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি অর্থ। এছাড়াও তারা নিয়মিত সফরকালে সাথে করে আরো অনেক বৈদেশিক মুদ্রা দেশে নিয়ে যান, যা আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বিশাল ভূমিকা পালন করছে। বিনিয়োগের সুযোগগুলো সাধারণ প্রবাসীদের নাগালের মধ্যে নিয়ে এলে দেশে প্রবাসীদের বিনিয়োগ এবং তাদের অর্থনৈতিক অবদান বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, আমরা জানি সরকারি নীতিমালায় এ বিষয়গুলোতে নজর দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি নির্বাহী প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।
তিনি তার প্রবন্ধ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং প্রবাসে এনআইডি কার্ড প্রাপ্তি ও পাসপোর্ট নবায়ন সহজ করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বাংলাধারা/এআই












