১২ মার্চ ২০২৬

উদ্ধার হচ্ছেনা হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র

মাকসুদ আহম্মদ, বিশেষ প্রতিবেদক»

হত্যার ঘটনার পর আসামী ধরার টেনশন নেই পুলিশের। মোবাইল ট্র্যাকিং ও  টাওয়ার নির্ধারনের মাধ্যমে আসামীর অবস্থান চিহ্নিত করা অনেকটা সহজ। বিজ্ঞানের এ যুগে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে হত্যাকারিকে ধরতে এখন আর বেগ পেতে হয়না পুলিশকে। একটু কৌশল খাটালেই আসামী গ্রেফতার কোন বিষয় নয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার  করা যাচ্ছে হত্যাকারীসহ নানা অপরাধী ও তাদের সহযোগীদের। কিন্তু রিমান্ডে আনার পরও কেন অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশ। এদিকে সিটি কর্পোরেশনের ৬ষ্ঠ নির্বাচনে ফ্লোরাপাস রোডস্থ ইউসেপ টেকনিক্যাল স্কুল মাঠে ভোটকে কেন্দ্র করে এক কর্মী হত্যার ঘটনা তদন্ত করছে সিআইডি। কিন্তু এই হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি।  

অভিযোগ রয়েছে, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা অস্ত্র উদ্ধার করলেও তা গোপন থেকে যাচ্ছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র মামলার আলামত হিসেবে জমা না দিয়ে অন্য কৌশল! ওই অস্ত্র পরবর্তীতে অন্য সন্ত্রাসীর কাছ থেকে উদ্ধার দেখিয়ে আইনের আওতায় নিয়ে পদক পাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন। আরো অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্র হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হলে এবং তা পরে উদ্ধার হলেও গোপন রাখা হয় এমন তথ্য সিএমপির এক উর্দ্ধতন কর্মকর্তার।

আরো অভিযোগ রয়েছে, রিমান্ড চলাকালীন সময়ে অস্ত্র উদ্ধার না করা প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তারাই সুক্ষ তথ্য ফাঁস করছেন। ঘটনার পর পর পুলিশ চাইলে মিডিয়ার কাছে আসামীসহ অস্ত্র উপস্থাপন করতে পারার বিষয়টি ক্ষণিকের  ব্যাপার। কিন্তু বার বার মিডিয়ার কাছে হাইলাইট হতে থানা পুলিশ কৌশলী প্রক্রিয়া চালু রেখেছে।  প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী অস্ত্র ব্যবহারকারীর পরিচয় মিলছে ঠিকই কিন্তু অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে না।

২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবি সাত রাস্তার মোড় এলাকায় সাজু পালিত ও মাদ্রসা ছাত্র আরমান হত্যার ঘটনায় দুটি পিস্তল ব্যবহার হলেও কোতয়ালী থানা পুলিশ একটিও উদ্ধার করতে পারেনি। কোতয়ালী থানার তৎকালীন ওসি দুটি পিস্তলই উদ্ধার করেছিলেন এমন অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু কেন তা উদ্ধার দেখাননি তা প্রশ্নবিদ্ধ।

এদিকে, কয়েক বছর আগে র‌্যাব সেভেনের একটি ইন্টেলিজেন্স টিম অস্ত্রসহ একজনকে গ্রেফতার করলেও জামিনে বেরিয়ে গেছে। সিআরবিতে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকারী এই সন্ত্রাসী সাজু পালিতের মাথায় নাইন এমএম বোরের পিস্তল ঠেকানোর প্রমাণ পেলেও কিচ্ছুটি করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারী পুলিশের ঘোলা তদন্তে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে গেছে অপরাধীরা। অভিযানের মাধ্যমে এসব অস্ত্র উদ্ধার করার কথা থাকলেও আদৌ সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন হত্যা মামলার তথ্য থেকে পাওয়া গেছে, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারী দুপুর দুইটার দিকে নগরীর জামাল খান সড়কের ডাঃ খাস্তগীর স্কুলের সামনে দুর্বৃত্তের হাতে ছুরিকাঘাতে খুন হয় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র আদনান। নিজ বাসা থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে দিনে দুপুরে এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১৭ জানুয়ারী  বুধবার সম্পৃক্ত ৫ জনকে গ্রেফতারের পর বেশকিছু তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কিন্তু হত্যাকান্ডের সময় প্রথমে আদনানকে ছোট অস্ত্র দিয়ে দাবড়িয়েছে সাব্বির খান এমন ফুটেজ পাওয়া গিয়েছিল সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে।

গ্রেফতারকৃত সাব্বির পুলিশকে জানিয়েছিল, ওই অস্ত্র মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের দাপুটে নেতা এনামের। হত্যাকান্ডের পর আবার এনাম হোসেনকে ফেরত দেয়া হয়েছিল অস্ত্রটি। তারা ৫ জন ছাড়াও জ্বিলহাজ নামের আরেকজন ছিল এই ঘটনার সময়। আদনান খুনের ঘটনায় ১৯ জানুয়ারী চট্টগ্রাম আদালতের মুখ্য মহানগর হাকিম আবু ছালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালতে ৫ গ্রেফতারকৃতকে সোপর্দ করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছিল। এমনকি অস্ত্রের যোগানদাতা এনাম হোসেন বলে জানিয়েছিল আদালতে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিন বিভাগের উপ-কমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসাইন তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পুলিশ স্বল্প সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে। পুলিশকে সাব্বির জানিয়েছিল তার হাতে থাকা অস্ত্রটি মহসিন কলেজের এনামের। পুলিশ অস্ত্রটিসহ অবৈধ অস্ত্রের যোগান দাতা এনামকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে।

এদিকে, চাঞ্চল্যকর আরেক ঘটনায় ২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবি সাত রাস্তার মোড়ে রেলের টেন্ডারবাজি নিয়ে এক মাদ্রাসা শিশুসহ ২ জন নিহতের ঘটনা ঘটে। এ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ৮ বছরেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় অস্ত্রধারী উভয় গ্রæপের মুল দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হলেও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি দীর্ঘ ৮ বছরেও।

এ বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে, ঐ ঘটনায় রিমান্ডে নেয়া ১৪ জন থেকে অস্ত্রের তথ্য পেলেও তা গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল বলে কোতোয়ালী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেছেন, পরবর্তীতে এ অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে কোতোয়ালী থানার তথ্য গোপন করা ঐ কর্মকর্তা হাইলাইট হওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পারেন নি।

বাংলাধারা/এফএস/এফএস

আরও পড়ুন