চট্টগ্রামে পরিচালিত খাদ্য নিরাপত্তা অভিযানে হাইওয়ে সুইটসকে ৮ লাখ টাকা এবং ওয়েল ফুডসকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের এ অভিযানে দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) নগরের মাঝিরঘাট, গোসাইলডাঙ্গা ও কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
অভিযানে মাঝিরঘাটের এইচ কে ফুড অ্যান্ড বেভারেজে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে মাইক্রোবায়োলজিস্টের সিল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মালিক আব্দুর রায়হান রাজুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং ম্যানেজার মো. আব্দুল গণিকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
গোসাইলডাঙ্গার মেসার্স মাস্টার ফুডস নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পঁচা ও পোকাযুক্ত ডিম ব্যবহার, ইঁদুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণ, শ্রমিকদের ধূমপান এবং লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে মালিক মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী মো. আইয়ুব ও কারিগর মো. হেলালকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
একই দিন কালুরঘাট বিসিক এলাকায় ওয়েল ফুডস লিমিটেডে মিষ্টি ও দইয়ে তেলাপোকার উপস্থিতি, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং কাঁচামালের রশিদ দেখাতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটিকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় মেসার্স হাইওয়ে সুইটসে নিম্নমানের ঘি ব্যবহার, লেবেলিং না থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সংরক্ষণের দায়ে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযান প্রসঙ্গে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফারহান বলেন, ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। যেসব প্রতিষ্ঠান আইন অমান্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ অভিযানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, র্যাব-৭, সিএমপি ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা অংশ নেন।












