৪ মার্চ ২০২৬

হাটহাজারীতে পশুর হাটে দেশীয় গরুর আধিপত্য, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই

সুৃমন পল্লব»

হাটহাজারীতে স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে প্রশাসন ও ইজারাদারদের পক্ষ থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে সেসব বিধিনিষেধ উপক্ষো করেই জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপজেলায় ২ টি স্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় হাট পৌরসভা পশু হাট ।

এছাড়াও অস্থায়ীভাবে ৪ টি পশুর হাট বসেছে। সেগুলোতে পর্যাপ্ত গরু আসছে এবং ভাল বিক্রিও হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে সচেতন করা হলেও সঠিক ভাবে মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি।

উপজেলার কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বেশি ভাগ ক্রেতা-বিক্রেতার মুখে মাস্ক নেই। নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধির বালাই। উপজেলা প্রশাসন ও ইজারাদারদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাইকিংসহ মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে। তারপরেও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি মানছেন না ক্রেতা-বিক্রেতাসহ আগতরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এবছর করোনার কারণে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো থেকে গরু কম আসার কারণে দেশীয় গরু আধিপত্য বেশি। পাশাপাশি ছাগল ও মহিষ বিক্রি হচ্ছে। ক্রয়-বিক্রয়ও তুলনামূলক ভালো। কেউ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে আসছেন। এবছর করোনা মহামারীর কারণে খামারীদের দিকে বেশী ঝোঁকার লক্ষণ দেখা গেছে ক্রেতাদের মাঝে।

হাটহাজারী উপজেলায় ১৫০ জন খামারী রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক ভাবে খামার রয়েছে ৪’শতর বেশি। মো. ইউসুফ নামে এক খামারী জানান, এ বছর আমার খামারে গরু মহিষ মিলে ১৩০টি রয়েছে। তার মধ্যে অধিকাংশ বিক্রয় হয়েছে। আমরা অনলাইন ও মোবাইলের মাধ্যমে গরু বিক্রয়ে হার বাড়ানোর কারণে এ বছর আমাদেরকে হাটের দিকে যেতে হচ্ছে না। আমরা খামারে বিক্রয় করছি।

পৌরসভা বাজারের পশুরহাটের ইজারাদার মো. আইয়ুব বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার জন্য মাস্ক পরার অনুরোধ করছি মাইকিং করে, পাশাপাশি হাত ধোয়ার জন্য বেসিন বসিয়াছি। নিরাপদে ও সাচ্ছন্দে গরু কেনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি এবং প্রাশসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি।

এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নাভিল ফারাবী জানান, কোরবানী উপলক্ষ্যে পশুরহাট গুলোতে আমাদের দপ্তর থেকে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। ঐ মনিটরিং টিম স্থায়ী, অস্থায়ী পশুর হাটে প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে ৬টা পর্যন্ত সেবা প্রদান করছেন। কোন পশু অসুস্থ হলে আমাদের মনিটরিং টিম তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন। এছাড়া কোন ক্রেতা বিক্রেতার পশু বিষয়ে পরামর্শ চাইলে আমাদের কাছ থেকে তাও দেওয়া হচ্ছে।

পশুর হাট সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহিদুল আলম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলায় ২টি স্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৬টি অস্থায়ী হাটের জন্য আবেদন করেছে সেগুলো মাননীয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে করোনা সচেতনার জন্য ফ্রি মাস্ক বিতরণসহ হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি সকলকে করোনা সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে সকলকে আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাধারা/এফএস/এআই

আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও

সর্বশেষ